শেখা নাকি শিখা : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

শেখা নাকি শিখা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ এগুলোকে শুদ্ধ… Continue reading শেখা নাকি শিখা : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

হত নাকি হতো : কোনটি সঠিক বানান?

হত নাকি হতো, এই দুটির মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়ে যান।অবশ্য একসময় এই দুটির পরিবর্তে একটি বানানই প্রচলিত ছিল। তবে উচ্চারণত পার্থক্য থাকার কারণে বাংলা একাডেমি দুটির বানানকে পৃথক করেছে। চলুন জেনে নিই কোনটি কোথায় লিখতে হবে। হত—হত শব্দের উচ্চারণ ‘হতো’।হত শব্দের অর্থ হচ্ছে নিহত, লুপ্ত, বাধাপ্রাপ্ত, অশুভ, মন্দ।নিহত, লুপ্ত, বাধাপ্রাপ্ত,… Continue reading হত নাকি হতো : কোনটি সঠিক বানান?

খোঁজা নাকি খুঁজা : কোনটি সঠিক ও কেন?

খোঁজা নাকি খুঁজা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ… Continue reading খোঁজা নাকি খুঁজা : কোনটি সঠিক ও কেন?

বাধা নাকি বাঁধা : কোনটি সঠিক বানান ও কেন?

বাধা নাকি বাঁধা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে আমরা অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যাই। চলুন আজীবন মনে রাখার মতো একটি সহজ উপায় জেনে নিই। বাধা—বাধা শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা, অন্তরায়, বিঘ্ন, নিষেধ, উপদ্রব, সংগঠিত হওয়া, সায় না পাওয়া, কষ্ট বোধ হওয়া, আটক হওয়া, বুঝতে অসুবিধা হওয়া, জড়িয়ে যাওয়া, খণ্ডন করা। √বাধ্+অ+আ = বাধা।উপরিউক্ত… Continue reading বাধা নাকি বাঁধা : কোনটি সঠিক বানান ও কেন?

সমাসবদ্ধ শব্দ লেখার নিয়ম : কখন একসঙ্গে কখন ফাঁকা?

সমাসবদ্ধ শব্দ লেখার সময় আমরা প্রায়ই দ্বিধান্বিত হয়ে যাই যে শব্দের মাঝে ফাঁকা হবে কি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক সমাসবদ্ধ শব্দ লেখার যথাযথ নিয়ম। সমাসবদ্ধ শব্দ যথাসম্ভব একসাথে লিখতে হবে।দৃষ্টান্ত :১. উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।২. ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখন করোনামুক্ত।৩. ভাষাসৈনিকদের প্রতি সকলে বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।৪. ভ্রমরকালো চোখ তার।৫. তোমার চাঁদমুখ দেখে দিশা হারাই।৬.… Continue reading সমাসবদ্ধ শব্দ লেখার নিয়ম : কখন একসঙ্গে কখন ফাঁকা?

ফোঁটা নাকি ফোটা : কোনটি সঠিক ও কেন ?

ফোঁটা নাকি ফোটা, কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে পড়ে যান।উপরিউক্ত শব্দ দুটির উচ্চারণ একই হলেও অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এদের পার্থক্য। ফোঁটা—ফোঁটা শব্দের অর্থ হচ্ছে তরল পদার্থের বিন্দু,  বিন্দুচিহ্ন, তাসের চিহ্ন।উপরিউক্ত অর্থে ফোঁটা শব্দটি ব্যবহৃত হবে।দৃষ্টান্ত :১. ”ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ—তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।”২. ভাইফোঁটা… Continue reading ফোঁটা নাকি ফোটা : কোনটি সঠিক ও কেন ?

অনুদিত নাকি অনূদিত : কোনটি সঠিক ও কেন ?

অনুদিত নাকি অনূদিত, দুটিই সঠিক নাকি একটি সঠিক বা দুটি সঠিক হলে কোনটির অর্থ কী এটা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। অনূদিত ও অনুদিত শব্দ দুটির উচ্চারণ একই হলেও অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। অনূদিত—অনূদিত শব্দের অর্থ হচ্ছে অনুবাদ করা হয়েছে এমন, ভাষান্তরিত। অনূ+ √বদ্+ত = অনূদিত। এটি সংস্কৃত শব্দ।ভাষান্তরিত অর্থে অনূদিত শব্দটি ব্যবহৃত হবে।দৃষ্টান্ত :১. গীতাঞ্জলি অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।২.… Continue reading অনুদিত নাকি অনূদিত : কোনটি সঠিক ও কেন ?

বোঝা নাকি বুঝা : কোনটি সঠিক বানান ও কেন?

বোঝা নাকি বুঝা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ… Continue reading বোঝা নাকি বুঝা : কোনটি সঠিক বানান ও কেন?

কারক কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী? | বিভক্তি

কারক ব্যাকরণের একটি অন্যতম অংশ। কারক শব্দের অর্থ—যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। কর্তা বা ক্রিয়ার সঙ্গে অনেককিছু মিলেই একটি বাক্যের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। এর প্রত্যেকটি অংশই কারক।কারক ৬ প্রকার—১. কর্তৃকারক  ২. কর্মকারক  ৩. করণ কারক  ৪. সম্প্রদান কারক  ৫. অপাদান কারক  ৬. অধিকরণ কারক। জামাল সাহেব রোজ সকালে ভান্ডার থেকে নিজ হাতে এতিমদেরকে টাকা দান… Continue reading কারক কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী? | বিভক্তি

সন্ধি কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

সন্ধি শব্দের  অর্থ মিলন। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির ফলে শব্দের মাধুর্য বৃদ্ধি পায়। তবে মূল শব্দের অর্থ তেমন লোপ পায় না। বাংলা শব্দের সন্ধি বাংলা শব্দের মাধুর্য বৃদ্ধির জন্যে যে সন্ধির উদ্ভব তাকে বাংলা শব্দের সন্ধি বলে। বাংলা শব্দের সন্ধি ২ প্রকার—স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি। স্বরসন্ধি স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের ফলে যে সন্ধি… Continue reading সন্ধি কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টের পার্থক্য

হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি শব্দগুলো আমাদের কারো কাছেই অপরিচিত নয়। তবে প্রায়ই অনেকে জিজ্ঞেস করেন যে আসলে হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, আর থাকলেও তা কতটুকু। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। হোটেল আমরা বাঙালিরা অনেকে হোটেল বলতে ‘মায়ের দোয়া ভাতের হোটেল’—এমন কিছু দেখে অভ্যস্ত। তবে বাস্তবে পার্থক্যটা অনেক। যদিও… Continue reading হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টের পার্থক্য

সমাস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

সমাস কাকে বলে সেটা প্রায় সবারই জানা। তবুও আরেকবার মনে করিয়ে দিই। সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ, মিলন, একপদীকরণ। কতগুলো পরস্পরসম্পর্কিত পদ যখন একসঙ্গে হয়ে নতুন একটি পদ গঠন করে তখন তাকে সমাস বলে। সমাসের ফলে ব্যবহৃত শব্দের সংখ্যা কমে যায়, অর্থাৎ কম শব্দ ব্যবহার করে একই অর্থ প্রকাশ করা যায়। মূলত একাধিক শব্দকে সংক্ষেপ করতে… Continue reading সমাস কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

বাঙলা নাকি বাংলা : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

বাঙলা নাকি বাংলা, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে অনেকেই প্রশ্ন করেন। অনেকের ধারণা বাঙলা বানানটি ভুল, আবার অনেকের মতে বাঙলা অপ্রচলিত হলেও শুদ্ধ বানান। আর যদি বাঙলা ভুল বানান হয়েও থাকে তাহলে তার কারণ কী। বানানটি ভুল না শুদ্ধ সেটা বিচার করার আগে শব্দটির উৎপত্তি জানা দরকার। চলুন বাঙলা নাকি বাংলা, কোনটি ভুল বা… Continue reading বাঙলা নাকি বাংলা : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

‘কর্’ ধাতুর রূপ

কর্ ধাতুও বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি ধাতু। আমরা অনেকেই কর্ ধাতুর ক্রিয়াপদ লিখতে গিয়ে ভুল করে থাকি। চলুন জেনে নিই কর্ ধাতুর চলিত রূপগুলো। ক. ব্যক্তি নিজে কাজ করলে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :করতাম, করেছিলাম, করছিলাম, করলাম, করেছি, করছি, করি, করব, করতে, করেছিলে, করছিলে, করলে, করেছ, করছ, করো, করবে, কোরো, করতি (স), করেছিলি, করছিলি, করলি,… Continue reading ‘কর্’ ধাতুর রূপ

‘দি’ ধাতুর রূপ

দি ধাতু বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি ধাতু। আজকাল আমরা অনেকেই মুখের ভাষাকেই লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমরা মৌখিক ভাষার সঙ্গে এত বেশি পরিচিত হয়ে গিয়েছি যে, আজকাল এগুলোকেই শুদ্ধ ও লেখার ভাষা মনে হয়। আর এই কারণেই আমরা দি ধাতুর ভুল প্রয়োগ করছি প্রতিনিয়ত। চলুন জেনে নিই দি… Continue reading ‘দি’ ধাতুর রূপ

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ?

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। বর্তমানে ফোন বা মুঠোফোন একটি বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। ছেলে-বুড়ো সবাই আজকাল এসব ব্যবহার করে অভ্যস্ত। অনেকের মুখেই শুনি ফোন দেওয়ার কথা। কিন্তু কারো সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া কি আসলেই শুদ্ধ? ফোন দেওয়া মানে দাঁড়ায়—কেউ কাউকে একটা… Continue reading ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ?

‘ভিত্তিক’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

‘ভিত্তিক’ শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে গণমাধ্যমে এটার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।তবে আমরা অনেকেই শব্দটির ভুল প্রয়োগ করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শব্দটি একসঙ্গে লিখতে হবে না আলাদাভাবে লিখতে হবে। শেষে ‘ভিত্তিক’ যুক্ত আছে এমন শব্দ সাধারণত সমাসবদ্ধ শব্দ হয়ে থাকে। আর সমাসবদ্ধ শব্দ সাধারণত একসঙ্গে বসে। ‘ভিত্তিক’ শব্দটি সবসময় আগের শব্দের সঙ্গে… Continue reading ‘ভিত্তিক’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি

শ্যাম রাখি না কুল রাখি একটি বহুল প্রচলিত বাগ্‌ধারা। চলুন জেনে নিই এর পেছনের ইতিহাস। শ্যাম হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম। রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়ের কাহিনি শোনেননি এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রেমের ইতিহাসে তাঁরা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা চিরদিন বেঁচে থাকার যোগ্য। প্রথমদিকে কৃষ্ণ রাধার জন্যে কাতর থাকতেন। রাধার চিন্তায় হয়ে উঠতেন অধীর,… Continue reading শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি

সম্পন্ন কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে বসে?

সম্পন্ন শব্দটির ভুল ব্যবহার প্রতিনিয়তই আমাদের চোখে পড়ে।মূলত শব্দটির অবস্থানগত কারণে অর্থবিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য একটি নিয়ম মনে রাখলে শব্দটির ভুল প্রয়োগ এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই ‘সম্পন্ন’ কখন, কোথায় ও কীভাবে লিখবেন। ক. ‘সম্পন্ন’ শব্দটি দিয়ে সম্পৎশালী, সমাপ্ত বা সম্পূর্ণ বোঝালে তা আলাদাভাবে বসে।দৃষ্টান্ত :১. জহুরুল সাহেবের কুলখানি সম্পন্ন হয়েছে।২. এই কাজ সম্পন্ন করতে… Continue reading সম্পন্ন কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে বসে?

সম্পর্কিত একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

সম্পর্কিত শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।তবে শব্দটির ভুল প্রয়োগে বাক্যের অর্থবিভ্রান্তি ঘটতে পারে। এজন্যে শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ জানা প্রয়োজন।চলুন জেনে নিই ‘সম্পর্কিত’ শব্দটি একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখতে হবে। ক. ‘সম্পর্কিত’ শব্দটি দিয়ে যে বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নির্দেশ করা হয় সেটা আগে থাকলে ‘সম্পর্কিত’ শব্দটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।দৃষ্টান্ত :১ ইতিহাস-সম্পর্কিত বই আমি খুব… Continue reading সম্পর্কিত একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

ভূতের মুখে রামনাম কথাটির উৎপত্তি

ভূতের মুখে রামনাম কথাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। সাধারণত অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য ঘটনা/ব্যাপার বোঝাতে আমরা ভূতের মুখে রামনাম কথাটি ব্যবহার করি। অবশ্য এই কথাটির পেছনে রয়েছে এক বিরাট পৌরাণিক কাহিনি। বাংলায় দেবযোনি নামে একটা শব্দ আছে। যাদের জন্ম দেবতা থেকে কিন্তু ক্ষমতা ও অন্যান্য দিক দিয়ে দেবতার মতো নয়, তাদেরকে মূলত দেবযোনি নামে অভিহিত… Continue reading ভূতের মুখে রামনাম কথাটির উৎপত্তি

উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত : কোনটি সঠিক ও কেন?

উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। উল্লেখিত শব্দটির সঙ্গে আমরা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। সাধারণত উল্লেখ করা হয়েছে এমন অর্থে আমরা এই শব্দটি ব্যবহার করি। তবে ব্যাকরণগত দিক দিয়ে উল্লেখিত অশুদ্ধ শব্দ। সন্ধিতে উদ্+লিখিত = উল্লিখিত হয়, আবার শব্দটি প্রত্যয়যোগেও গঠিত। উদ্+ √লিখ্+ত = উল্লিখিত।উদ্ হচ্ছে… Continue reading উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত : কোনটি সঠিক ও কেন?

নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ : কোনটি সঠিক বানান?

নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। লেখার সময় সংশয়ের মাত্রা আরও বাড়ে। প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে এগুলোর ভুল ব্যবহার আমাদেরকে আরও সংশয়ে ফেলে দেয়, বিশেষ করে সংবাদপত্রে ভুল প্রয়োগ। প্রথমে জানা জরুরি যে, দুটিই সঠিক নাকি একটি ভুল। চলুন জেনে নিই দুটিই সঠিক নাকি একটি সঠিক। নিষিদ্ধ—‘নিষিদ্ধ’… Continue reading নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ : কোনটি সঠিক বানান?

‘জাতীয়’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

আমরা অধিকাংশ বাঙালিই ‘জাতীয়’ শব্দটির প্রয়োগে ভুল করি। অবশ্য একটি সহজ নিয়ম মনে রাখলেই এই ভুল এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই ‘জাতীয়’ কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে লিখতে হবে। ক. ‘জাতীয়’ শব্দটি জাতিসম্পর্কিত বা সমগ্র জাতির ইত্যাদি বোঝালে তা আলাদাভাবে বসবে।দৃষ্টান্ত :১. কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল।২. জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দল-মত ভুলে কাজ করা উচিত।৩. জাতীয় চার… Continue reading ‘জাতীয়’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

আমরা অনেকেই প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত শব্দ দুটিকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শব্দ দুটির অর্থে পার্থক্য রয়েছে। ‘প্রেক্ষিত’ শব্দটি প্রেক্ষণ শব্দের বিশেষণ। প্রেক্ষণ মানে দর্শন বা দেখা। প্রেক্ষিত মানে দেখা হয়েছে এমন।প্রেক্ষিত শব্দের সঙ্গে ‘পরি’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে পরিপ্রেক্ষিত শব্দটি গঠিত হয়েছে। ‘পরি’ উপসর্গের অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে, চতুর্দিক।পরিপ্রেক্ষিত শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—পটভূমি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা… Continue reading প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

অত্র-এর প্রচলিত ভুল ব্যবহার

অত্র শব্দটির সঙ্গে আমরা ছোটোবেলা থেকেই পরিচিত। যেদিন থেকে আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র লেখা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই বোধ হয় আমাদের ‘অত্র ’লেখার হাতেখড়ি। আবেদনপত্র লিখেছেন কিন্তু ‘অত্র’ শব্দটি লেখেননি এমন মানুষ খুব কমই আছেন।এমনকি বক্তৃতা বা মৌখিক ঘোষণায় প্রায়ই ‘অত্র’ শব্দটি শোনা যায়। আমরা সাধারণত ‘এই’ অর্থে ‘অত্র‘ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু ‘অত্র… Continue reading অত্র-এর প্রচলিত ভুল ব্যবহার

আসলে/এলে-এর ব্যবহার

‘আসলে’ একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। আমরা হরহামেশা ‘আসলে’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। শব্দটির উচ্চারণ ‘আশ্‌লে’ হলে আমরা বুঝতে পারি যে, ‘আসলে’ শব্দটি দিয়ে এলে বা আগমন করলে বোঝানো হচ্ছে।আবার উচ্চারণ ‘আশোলে’ হলে আমরা বুঝতে পারি যে, প্রকৃতপক্ষে বা বস্তুত বোঝানো হচ্ছে। বানান একই, কিন্তু উচ্চারণ ও অর্থ উভয়ই ভিন্ন। মাঝে মাঝে বাক্যে ‘আসলে’ শব্দটি দেখে… Continue reading আসলে/এলে-এর ব্যবহার

‘চলাকালীন সময়ে’ ভুল না শুদ্ধ?

চলাকালীন সময়ে শব্দ দুটি প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে।এই শব্দ দুটির সঙ্গে আমরা রীতিমতো অভ্যস্তও বটে।অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, চলাকালীন শব্দটি লেখার সঙ্গে সঙ্গেই সময়ে শব্দটি আমাদের কলমের ডগায় চলে আসে। কাল হচ্ছে বিশেষ্য, যার অর্থ—সময়। কালীন হচ্ছে কাল শব্দের বিশেষণ পদ, এর অর্থ—সময়ে। চলাকালীন শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—চলার সময়ে। চলাকালীন সময়ে মানে ‘চলার সময়ে সময়ে’।… Continue reading ‘চলাকালীন সময়ে’ ভুল না শুদ্ধ?

সমসাময়িক নাকি সামসময়িক : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

সমসাময়িক নাকি সামসময়িক, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে আমরা অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছি তার কারণ হচ্ছে সামসময়িক বানানটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষ এই বানানটির সঙ্গে অপরিচিত। অধিকাংশ বাঙালিই সমসাময়িক শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। বহুদিন ধরেই সমসাময়িক বানানটি শুদ্ধ হিসেবে প্রচলিত ছিল কিন্তু বাংলা একাডেমি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে… Continue reading সমসাময়িক নাকি সামসময়িক : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

‘বহুল’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

‘বহুল’ শব্দটি নিজেই একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এই শব্দটি কখনো একসঙ্গে, আবার কখনো আলাদাভাবে বসে।চলুন জেনে নিই এই শব্দটিকে কখন একসঙ্গে ও কখন আলাদাভাবে লিখতে হবে। ক. ‘বহুল’ শব্দটি দিয়ে যে শব্দটির অর্থ জোরালো করা হয় সেটা আগে থাকলে বহুল শব্দটি সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে। ‘বহুল’ শব্দটি বিশেষ্য পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষণ পদ… Continue reading ‘বহুল’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা : কোনটি সঠিক ও কেন ?

এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা, এই দুটির মধ্যে কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে সম্প্রতি কিছুটা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এদের শুদ্ধতা জানতে ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ জানা খুবই জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক। আমরা বহু আগে থেকেই এতদ্বারা শব্দটির সঙ্গে পরিচিত।বিজ্ঞপ্তি বা ঘোষণায় “এতদ্বারা” শব্দটি দেখেননি বা শোনেননি এমন বাঙালি খুব কমই আছেন।আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই এই শব্দটি দেখে বা শুনে অভ্যস্ত। এত… Continue reading এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা : কোনটি সঠিক ও কেন ?

‘বিশেষ’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

একই শব্দ হলেও লেখার সময় ‘বিশেষ’ শব্দটির অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। আমরা অনেকেই দ্বিধায় থাকি এটা নিয়ে।চলুন জেনে নিই বিশেষ শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ। ক. ‘বিশেষ’ শব্দটি আলাদাভাবে বসলে তা বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; তখন এর অর্থ দাঁড়ায় ‘মর্যাদাপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ’।দৃষ্টান্ত :১. তিনি আমার কাছে একজন বিশেষ ব্যক্তি।২. প্রতিটি মানুষের কাছে তার জন্মদিন… Continue reading ‘বিশেষ’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

না হলে/নাহলে-এর ব্যবহার

উপরিউক্ত শব্দ দুটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি।না বুঝে অনেকে ভুল করেও বসি। চলুন জেনে নিই এদের যথাযথ ব্যবহার। না হলে—‘বাস্তবিকই যদি না ঘটে বা যদি না হয়’ এমন অর্থে না হলে শব্দটি ব্যবহৃত হয়।দৃষ্টান্ত :১. বৃষ্টি না হলে আমি ঘুরতে যাব।২. এই কাজে সফল না হলে আবার চেষ্টা কোরো।৩. এখন আসা সম্ভব না হলে… Continue reading না হলে/নাহলে-এর ব্যবহার

সন্ধিবদ্ধ শব্দে বিসর্গ/ও-কার

সন্ধিবদ্ধ শব্দে বিসর্গ/ও-কার লেখা কিছুটা সংশয়মূলক। কোন শব্দে বিসর্গ আর কোন শব্দে ও-কার সেটা মুখস্থ করাও বেশ কঠিন। তবে একটি সহজ নিয়ম মনে রাখলে নিঃসন্দেহে শুদ্ধ বানান লেখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই সন্ধিবদ্ধ শব্দে বিসর্গ, ও-কারের ব্যবহার। ক. সন্ধিতে বিসর্গের পরে বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ণ (গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ,… Continue reading সন্ধিবদ্ধ শব্দে বিসর্গ/ও-কার

হয় তো/হয়তো-এর ব্যবহার

হয় তো ও হয়তো শব্দ দুটি লিখতে গিয়ে আমরা প্রায়ই সংশয়ে থাকি। বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্যে এদের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। চলুন জেনে নিই এদের যথাযথ ব্যবহার। হয় তো—একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরেকটি ঘটনা ঘটলে বা হ্যাঁ-সূচক অর্থে হয় তো ব্যবহৃত হয়।দৃষ্টান্ত :১. যদি বৃষ্টি হয় তো আমি বাজারে যাব না।২. সে আমার বন্ধু হয় তো।৩.… Continue reading হয় তো/হয়তো-এর ব্যবহার

নয় তো/নয়তো-এর ব্যবহার

নয় তো—নয় তো শব্দটি না-বোধক অর্থে বা সংশয় প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।দৃষ্টান্ত :১. সে এমন দুষ্টু ছেলে নয় তো।২. সে তোমার মতো বোকা নয় তো।৩. লোকটা ধান্দাবাজ নয় তো?৪. লোকটার চরিত্র ভালো নয় তো, একদিন ধরা পড়বেই।৫. এটা আবার নতুন কোনো ঝামেলা নয় তো? নয়তো—অন্যথায়, নাহয়, নাহলে ইত্যাদি অর্থে নয়তো শব্দটি ব্যবহৃত হয়।দৃষ্টান্ত :১. তুমি আমাদের… Continue reading নয় তো/নয়তো-এর ব্যবহার

‘মতো’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

‘মতো’ শব্দটি একসঙ্গে লিখব না আলাদাভাবে লিখব সেটা নিয়ে আমরা প্রায়ই সংশয়ে থাকি। চলুন জেনে নিই আজীবন মনে রাখার মতো একটি সহজ নিয়ম। ক. ‘মতো’ শব্দটি যদি অনুযায়ী, অনুসারে, মোতাবেক ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে মতো শব্দটি সবসময় আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসবে।দৃষ্টান্ত :১. ঠিকমতো পড়াশোনা কোরো।২. আমার উপদেশমতো কাজ করবে।৩. আমার কথামতো চললে… Continue reading ‘মতো’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

ও-এর বিচিত্র ব্যবহার

ও বিভিন্ন রূপে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে।ও-এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাক্যকে সহজবোধ্য করে তোলা যায়। চলুন জেনে নিই ও-এর যথাযথ ব্যবহার। সর্বনাম হিসেবে—সর্বনাম হিসেবে ও প্রায়ই ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।দৃষ্টান্ত :১. ও আজ আমার সঙ্গে বাজারে যাবে।২. ওকে আসতে বোলো।৩. ওঁকে আমি অনেক সম্মান করি। সংযোজক অব্যয় হিসেবে—দুটি পদের সংযোগ ঘটাতে ও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত… Continue reading ও-এর বিচিত্র ব্যবহার

ও/এবং-এর ব্যবহার

ও বা এবং হচ্ছে বহুল ব্যবহৃত দুটি সংযোজক অব্যয়। শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োগে পার্থক্য রয়েছে। প্রায়োগিক দিক দিয়ে শব্দ দুটি একে অন্যের পরিপূরক নয়। চলুন জেনে নিই শব্দ দুটির যথাযথ ব্যবহার। ও—সাধারণত দুটি পদকে সংযুক্ত করতে ও ব্যবহৃত হয়।এজন্য দুটি পদের মাঝে ও ব্যবহৃত হবে।দৃষ্টান্ত :১. রহিম ও করিম খুব ভালো ছেলে।২.… Continue reading ও/এবং-এর ব্যবহার

‘ইদ’ অর্থ কি ঋতুস্রাব? ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ইদ বলা যাবে কি?

‘ইদ’ বানানটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক চলছে। কিছুদিন আগে এটা নিয়ে কয়েকটি পোস্ট আমার চোখে পড়েছে।কয়েকজনের পোস্টে লেখা দেখলাম যে, খুশি বা ধর্মীয় উৎসব অর্থে ইদ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। তাদের যুক্তি অনুযায়ী ইদ নাকি একটি খারাপ বিষয় নির্দেশ করে। তাদের মতে ইদ শব্দের অর্থ নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব। আসলেই কি তাই? প্রকৃতপক্ষে ইদ… Continue reading ‘ইদ’ অর্থ কি ঋতুস্রাব? ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ইদ বলা যাবে কি?

দিক ও দিগ-এর ব্যবহার

দিক—দিক হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত দিগ-এর আরেক রূপ।উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে দিগ-এর পরিবর্তে দিক বসবে। যেমন—১. দিক্+চক্র = দিকচক্র২. দিক্+পাল = দিকপাল৩. দিক্+শূল = দিকশূল দিগ—দিগ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ন,… Continue reading দিক ও দিগ-এর ব্যবহার

মধ্যে ও মাঝে-এর পার্থক্য

মধ্যে ও মাঝে শব্দ দুটি প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে। কিছু ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও সবখানেই মধ্যে ও মাঝে একে অন্যের পরিপূরক নয়। মধ্যে—অভ্যন্তর বা দুটির তুলনায় সাধারণত মধ্যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন—১. সে চুপিচুপি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল।২. দুইমাসের মধ্যে কাজটি শেষ কোরো। মাঝে—কেন্দ্রবিন্দু বা সময়কাল বোঝাতে সাধারণত মাঝে শব্দটি… Continue reading মধ্যে ও মাঝে-এর পার্থক্য

উপসর্গ কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

উপসর্গ হচ্ছে অব্যয়সূচক শব্দাংশ বা ধ্বনি যা অন্য শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে। উপসর্গ নিজে স্বাধীন শব্দ বা পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না—অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে ১. বাংলা উপসর্গ : বাংলা ভাষার নিজস্ব (খাঁটি বাংলা) উপসর্গ মোট ২১ টি। নাম অর্থদ্যোতনা উদাহরণ অ… Continue reading উপসর্গ কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

দূ ও দু-এর ব্যবহার

দ-য়ে দীর্ঘ ঊ-কারযুক্ত শব্দের বানান ভুল না করলেও দ-য়ে হ্রস্ব উ-কারযুক্ত শব্দের বানান আমরা প্রায়ই ভুল করি। চলুন জেনে নিই এই ভুল থেকে বাঁচার একটি সহজ উপায়। দূ—দূরত্ব বোঝায় এমন সকল শব্দে দ বর্ণের সাথে দীর্ঘ ঊ-কার যুক্ত হবে। যেমন—দূর, দূরত্ব, দূরবর্তী, দূরবীক্ষণ, দূরপাল্লা, দূরদৃষ্টি, দূরদর্শী। ব্যতিক্রম—দুরবিন। দু—দু বা দুঃ হচ্ছে উপসর্গ। দু বা দুঃ… Continue reading দূ ও দু-এর ব্যবহার

ম-ফলার উচ্চারণ

১. পদের প্রথমে ম-ফলা থাকলে সে বর্ণের উচ্চারণে কিছুটা ঝোঁক পড়ে এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন—শ্মশান (শঁশান্), স্মরণ (শঁরোন্)। কখনো কখনো ম-ফলা অনুচ্চারিত থাকতেও পারে। যেমন—স্মৃতি (সৃঁতি)। ২. পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে সে বর্ণের দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য নাসিক্যস্বর হয়। যেমন—আত্মীয় (আত্‌তিঁয়ো), পদ্ম (পদ্‌দোঁ), বিস্ময় (বিশ্‌শঁয়), ভস্ম (ভশ্‌শোঁ), রশ্মি (রোশ্‌শিঁ)। ৩.… Continue reading ম-ফলার উচ্চারণ

ঋ, ঐ, ও-ধ্বনির উচ্চারণ

ঋ ধ্বনির উচ্চারণ : স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলেও ঋ ধ্বনির উচ্চারণ রি বা রী-এর মতো হয়। ঋ ধ্বনি ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হলে তা র-ফলা+ই-কার (্রি)-এর মতো হয়। যেমন—ঋতু, ঋণ, মাতৃ, ভ্রাতৃপ্রেমী, বৃষ্টি, দৃষ্টি। ঐ ধ্বনির উচ্চারণ : ঐ ধ্বনিটি একটি যৌগিক স্বরধ্বনি। ও+ই কিংবা অ+ই ধ্বনি মিলিত হয়ে ঐ ধ্বনি গঠন করে।যেমন—ক্+অ+ই= কই, ব্+অ+ই+ধ=… Continue reading ঋ, ঐ, ও-ধ্বনির উচ্চারণ

পুরুষ কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

পক্ষ বা পুরুষের দ্বারা বক্তা, বক্তার সামনে উপস্থিত শ্রোতা ও যার কথা বলা হচ্ছে এমন অনুপস্থিত সত্তা নির্দেশ করা হয়। পুরুষের ওপর ক্রিয়ার রূপ নির্ভরশীল (দৃষ্টান্ত দেওয়া আছে)।ব্যাকরণের ক্ষেত্রে পক্ষ বা পুরুষ তিন প্রকার : উত্তম পুরুষ উত্তম পুরুষ বক্তা বা তার সমগোত্রীয়কে নির্দেশ করে। যেমন—আমি, আমরা, আমাকে আমাদের ইত্যাদি।ক্রিয়ার প্রয়োগ :১. আমি তোমাকে কথাটা… Continue reading পুরুষ কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

এ ধ্বনির উচ্চারণ

এ ধ্বনির উচ্চারণ দুই ধরনের হয়ে থাকে—১. সংবৃত ২. বিবৃত/স্বাভাবিক। এ ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ :১. পদের শেষে এ সংবৃত হয়। যেমন—মাঠে, ঘাটে, বলে, চলে। ২. তৎসম শব্দের প্রথমে ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত এ ধ্বনির উচ্চারণ সংবৃত হয়। যেমন—দেশ, প্রেম, শেষ। ৩. একাক্ষর সর্বনাম পদের এ সংবৃত হয়। যেমন— যে, সে, কে। ৪. হ কিংবা আ-কারবিহীন যুক্তধ্বনি… Continue reading এ ধ্বনির উচ্চারণ

স্ত ও স্থ-এর ব্যবহার

অধিকাংশ সময়ই আমরা স্ত ও স্থ যুক্তবর্ণের প্রয়োগ নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাই। এমনকি ভুল এড়ানোর জন্য আমরা বিকল্প শব্দ ব্যবহার করতেও বাধ্য হই। চলুন জেনে নিই স্ত ও স্থ-এর ব্যবহার মনে রাখার একটি সহজ কৌশল। স্ত—স্ত সেসব শব্দেই বসে যেসব শব্দে স্ত না থাকলে অবশিষ্ট অংশ অর্থবোধক হয় না বা অবশিষ্ট অংশের অর্থের ব্যাপক পরিবর্তন… Continue reading স্ত ও স্থ-এর ব্যবহার

যতি বা বিরামচিহ্ন ও এর ব্যবহারকৌশল

যতি বা বিরামচিহ্ন লেখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতি বা বিরামচিহ্ন প্রয়োগ করতে সামান্য ভুল করলে বদলে যেতে পারে বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক যতি বা বিরামচিহ্ন কীভাবে ব্যবহার করা উচিত। কমা—সাধারণত পূর্ণ বাক্যের শেষে কমা বসে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কমা বসতে পারে যেমন:—একাধিক শব্দের মাঝে, সম্বোধনের পরে, প্রত্যক্ষ উক্তিতে, তারিখের ক্ষেত্রে বার বা… Continue reading যতি বা বিরামচিহ্ন ও এর ব্যবহারকৌশল

যেমনই/যেমনি, তেমনই/তেমনি, এমনই/এমনি

যেমনই—যেমনই শব্দের অর্থ হচ্ছে যেরকমই, যেরূপই।উপরিউক্ত অর্থে যেমনই লিখতে হবে। যেমন—১. দেখতে যেমনই হোক, সে তো আমার সন্তান।২. যেমনই বাবা, তেমনই ছেলে। যেমনি—যেমনি শব্দের অর্থ হচ্ছে যেইমাত্র, যে মুহূর্তে।উপরিউক্ত অর্থে যেমনি লিখতে হবে। যেমন—১. যেমনি পুলিশ এলো, চোরটা দৌড়ে পালিয়ে গেল।২. যেমনি বজ্রপাত হলো, তেমনি সে আমাকে জড়িয়ে ধরল। তেমনই—তেমনই শব্দের অর্থ হচ্ছে সেরকমই, উপযুক্ত।উপরিউক্ত… Continue reading যেমনই/যেমনি, তেমনই/তেমনি, এমনই/এমনি

সাতনরি হার

গান, গল্প বা উপন্যাসে আমরা প্রায়ই সাতনরি হার কথাটি পেয়ে থাকি। কিন্তু এর অর্থ আসলে কী?চলুন জেনে নিই সাতনরি হার কথার অর্থ। সাতনরি শব্দে সাত মানে ৭ সংখ্যক, আর নরি অর্থ প্যাঁচ।সাতনরি’র অর্থ করলে দাঁড়ায় সাতপ্যাঁচবিশিষ্ট। সুতরাং সাতনরি হার মানে হচ্ছে গলায় পরিধানের সাতপ্যাঁচবিশিষ্ট হার বা অলংকারবিশেষ।

আ, ই, ঈ, উ, ঊ ধ্বনির উচ্চারণ

আ ধ্বনির উচ্চারণ—বাংলায় আ ধ্বনি একটি বিবৃত স্বর। আ ধ্বনির উচ্চারণ হ্রস্ব ও দীর্ঘ উভয়ই হতে পারে। এর উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি ফাদার (father) ও কাম (calm) শব্দের আ (a) এর মতো। যেমন—বাড়ি, আপন, মা, দাতা প্রভৃতি। বাংলা একাক্ষর শব্দের আ ধ্বনি দীর্ঘ হয়। যেমন—পান, গান, ধান, বান, সাজ, ঢাল, চাঁদ, বাঁশ। হ্রস্ব ই ও দীর্ঘ… Continue reading আ, ই, ঈ, উ, ঊ ধ্বনির উচ্চারণ

অ ধ্বনির উচ্চারণ

অ ধ্বনির উচ্চারণ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—১. স্বাভাবিক বা বিবৃত উচ্চারণ। ২. সংবৃত বা ও-ধ্বনির মতো উচ্চারণ। অ ধ্বনির স্বাভাবিক বা বিবৃত উচ্চারণ :শব্দের আদিতে :১. শব্দের আদিতে না-বোধক অর্থে অ উচ্চারিত হয়। যেমন—অটল, অনাচার।২. অ কিংবা আ-যুক্ত ধ্বনির পূর্ববর্তী অ ধ্বনি বিবৃত হয়।যেমন—অমানিশা, কথা। শব্দের মধ্যে বা অন্তে :১. পূর্ব স্বরের সাথে মিল… Continue reading অ ধ্বনির উচ্চারণ

ইক প্রত্যয়যুক্ত শব্দের নিয়ম

ক. শব্দের প্রথমে অ ধ্বনি থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে  আ-কার হবে। যেমন—১. পরিবার+ইক = পারিবারিক২. অভিধান+ইক = আভিধানিক৩. সমুদ্র+ইক = সামুদ্রিক৪. কল্পনা+ইক = কাল্পনিক৫. অর্থনীতি+ইক = আর্থনীতিক৬. প্রসঙ্গ+ইক = প্রাসঙ্গিক৭. সংগঠন+ইক = সাংগঠনিক৮. সংবাদ+ইক = সাংবাদিক৯. সংবিধান+ইক = সাংবিধানিক১০. সপ্তাহ+ইক = সাপ্তাহিক খ. শব্দের প্রথমে হ্রস্ব ই-কার, দীর্ঘ ঈ-কার, এ-কার থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে ঐ-কার… Continue reading ইক প্রত্যয়যুক্ত শব্দের নিয়ম

ষত্ব বিধান

দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ষত্ব বিধানের প্রয়োগ নেই। শুধু তৎসম শব্দে ষত্ব বিধানের প্রয়োগ আছে। তৎসম শব্দে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। ষত্ব বিধিসমূহ :১. ঋ বা ঋ-কারের পরে সাধারণত মূর্ধন্য ষ বসে। যেমন—কৃষক, বৃষ্টি, সৃষ্টি, দৃষ্টি, ঋষি, কৃষি, ২. তৎসম শব্দে র ধ্বনি বা রেফের পরে কোথাও কোথাও মূর্ধন্য ষ বসে। যেমন—বর্ষণ, ঘর্ষণ,… Continue reading ষত্ব বিধান

গোরু বানানের আদ্যোপান্ত

গত ২/৩ দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমালোচিত বিষয় হচ্ছে গোরু বানান। অনেকে ভাবছেন যে গোরু বানানটি সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে। আমার কাছে থাকা অভিধান ঘাঁটাঘাঁটি করে যেটা পেলাম সেটা হচ্ছে সুবলচন্দ্র মিত্র সম্পাদিত আদর্শ বাঙ্গালা অভিধানে (প্রকাশকাল—১৯৩১, পৃষ্ঠা—৫৫৭) ‘গোরু’ বানানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আমার কাছে থাকা নিম্নোক্ত অভিধানগুলোতেও গোরু বানানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়— ১. চলন্তিকা—আধুনিক বঙ্গভাষার… Continue reading গোরু বানানের আদ্যোপান্ত

ভারি/ভারী, তৈরি/তৈরী

ভারি—ভারি শব্দের অর্থ হচ্ছে অত্যন্ত, অতিশয়, অত্যধিক। ভারি বাংলা শব্দ এজন্য হ্রস্ব ই-কার বসবে।অত্যন্ত, অতিশয়, অত্যধিক অর্থে ভারি শব্দটি ব্যবহৃত হবে। যেমন—১. ছেলেটি ভারি দুষ্টু।২. তোমার কাজে আমি ভারি খুশি।৩. শুকনো মাটি ভারি শক্ত। ভারী—ভারী শব্দের অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত ভারযুক্ত, দায়িত্বপূর্ণ, ভারবাহক। ভার+ইন্ = ভারী। ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার বসে। উপরিউক্ত অর্থে… Continue reading ভারি/ভারী, তৈরি/তৈরী

বাক্ ও বাগ্-এর পার্থক্য

বাক্—বাক্ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত বাগ্-এর রূপ। উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে বাগ্-এর পরিবর্তে বাক্ বসবে।যেমন—১. বাক্+কলহ = বাক্‌কলহ২. বাক্+চাতুরী = বাক্‌‌চাতুরী৩. বাক্+পতি = বাক্‌পতি= বাক্‌পতি৪. বাক্‌+বিভূতি = বাক্‌বিভূতি৫. বাক্‌+শক্তি = বাক্‌শক্তি৬. বাক্‌+সংযম = বাক্‌সংযম বাগ্—বাগ্ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে গ,… Continue reading বাক্ ও বাগ্-এর পার্থক্য

লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন

কথায় কথায় আমরা অনেকেই ‘গৌরীসেনের টাকা’ কথাটি উল্লেখ করে থাকি। এই কথাটির অবশ্য একটি ইতিহাসও আছে। চলুন জেনে নিই এই কথাটির উৎপত্তি। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতকে ভারতের হুগলি অঞ্চলে গৌরীসেন নামে একজন ধনী ব্যবসায়ী বসবাস করতেন। তিনি জাতিধর্ম নির্বিশেষে দায়গ্রস্ত ব্যক্তিকে চাওয়ামাত্র অর্থ দান করতেন।সেখান থেকেই ‘লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন’ কথাটির উৎপত্তি যার অর্থ চাওয়ামাত্রই যে টাকা… Continue reading লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন

শাহবাগ নামটির উৎপত্তি

ঢাকা শহরের একটি সুপরিচিত ও জনবহুল এলাকা হচ্ছে শাহবাগ। শাহবাগের নাম শোনেনি এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছে। চলুন জেনে নিই শাহবাগ নামটির উৎপত্তির ইতিহাস। শাহবাগ শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথমটি ‘শাহ’ অন্যটি ‘বাগ’।ফারসি ‘শাহ’ শব্দের অর্থ হচ্ছে রাজা বা বাদশাহ আর বাগ শব্দের অর্থ হচ্ছে বাগান বা বাগিচা। শাহবাগ শব্দের অর্থ হচ্ছে রাজার… Continue reading শাহবাগ নামটির উৎপত্তি

লেখালেখি নাকি লেখালিখি : কোনটি সঠিক ও কেন?

লেখালেখি নাকি লেখালিখি, কোন বানানটি সঠিক সেটা নিয়ে আমাদের দ্বিধা ও তর্কের যেন শেষ নেই। অনেকে মনে করেন যে লেখালিখি শব্দটি চলিত শব্দ নয়।তাঁদের অভিমত ‘লেখা শব্দের সাথে লিখি যুক্ত করলে সেটা সাধু শব্দে পরিণত হবে’। এবার নিম্নোক্ত শব্দগুলো লক্ষ করুন—বোঝাবুঝি, খোঁজাখুঁজি, বলাবলি, মারামারি, ধরাধরি, কাটাকাটি, দেখাদেখি, চাপাচাপি, খোলাখুলি, বকাবকি। উপরিউক্ত সবগুলো শব্দই চলিত শব্দ। এই ধরনের শব্দে ক্রিয়াপদ… Continue reading লেখালেখি নাকি লেখালিখি : কোনটি সঠিক ও কেন?

ণত্ববিধান ও ষত্ববিধান : কখন কোথায় প্রয়োগ করবেন

দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ণত্ববিধানের প্রয়োগ নেই। শুধু তৎসম শব্দে ণত্ববিধানের প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দে মূর্ধন্য ণ ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ববিধান বলে। নিয়মসমূহ :১. ট বর্গীয় (ট, ঠ, ড, ঢ) ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ণ বসে।যেমন—কণ্টক, লুণ্ঠন, মণ্ড, কণ্ঠ, ভণ্ড, মণ্ডূক, মণ্ডলী। ২. তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ ধ্বনির পরে মূর্ধন্য ণ বসে। যেমন—ব্যাকরণ,… Continue reading ণত্ববিধান ও ষত্ববিধান : কখন কোথায় প্রয়োগ করবেন

শৌখিন, অঘ্রাণ, অঘ্রান, ইঙ্গিত, বিরূপ

শৌখিন—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শৌখিন  বানানটিকে শুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শৌখিন শব্দের উৎপত্তি আরবি শৌকিন থেকে। সৌখিন ভুল বানান। অঘ্রাণ—অঘ্রাণ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঘ্রাণহীন।ন+ √ঘ্রা+অন = অঘ্রাণ। তৎসম শব্দে ণত্ব বিধান অনুযায়ী র ধ্বনির পরে স্বরধ্বনি থাকলে পরের দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়ে যায়। অঘ্রান—অঘ্রান হচ্ছে বাংলা পঞ্জিকার অষ্টম মাস।অঘ্রান শব্দটি অগ্রহায়ণ শব্দের চলিত… Continue reading শৌখিন, অঘ্রাণ, অঘ্রান, ইঙ্গিত, বিরূপ

অনুস্বার (ং) ও ঙ-এর ব্যবহার

সন্ধিতে ম বর্ণের পরে ক, খ, গ, ঘ, য, র, ল, ব, শ, স, হ ইত্যাদি বর্ণের যে-কোনো একটি বর্ণ থাকলে সন্ধিবদ্ধ শব্দে পূর্বের ম-এর স্থানে সাধারণত অনুস্বার (ং) হয়।যেমন—১. সম্+কীর্ণ = সংকীর্ণ২. সম্+কলন = সংকলন৩. সম্+কর = সংকর৪. সম্+কট = সংকট৫. সম্+গীত = সংগীত৬. সম্+গঠন = সংগঠন৭. সম্+গতি = সংগতি৮. সম্+ঘাত = সংঘাত৯. সম্+ঘটক… Continue reading অনুস্বার (ং) ও ঙ-এর ব্যবহার

সংগৃহীত, নিরবচ্ছিন্ন, প্রবহমান, বিদ্যুদায়ন, আহ্লাদী

সংগৃহীত—বাংলা একাডেমির অভিধানে সংগৃহীত বানানটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। সম্+ √গ্রহ্+ত = সংগৃহীত। সংগৃহিত বা সংগ্রহিত বানান দুটি শুদ্ধ নয় যা আমরা অনেকেই লিখে থাকি। নিরবচ্ছিন্ন—আধুনিক বাংলা অভিধানে নিরবচ্ছিন্ন বানানটিকে শুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। নির্+অবচ্ছিন্ন = নিরবচ্ছিন্ন। নির্+অবিচ্ছিন্ন নয়। বিদ্যুদায়ন—বাংলা একাডেমির নতুন অভিধানে বিদ্যুদায়ন বানানটিকে শুদ্ধ ও অপ্রচলিত বানান হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিদ্যুৎ+আয়ন = বিদ্যুদায়ন। সন্ধিতে… Continue reading সংগৃহীত, নিরবচ্ছিন্ন, প্রবহমান, বিদ্যুদায়ন, আহ্লাদী

আপৎ, বিপৎ, আপদ্, বিপদ

আপৎ, বিপৎ—আপৎ ও বিপৎ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত যথাক্রমে আপদ্ ও বিপদ-এর রূপ। উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে আপদ্, বিপদ-এর পরিবর্তে আপৎ, বিপৎ বসবে।যেমন—১. আপদ্+কাল = আপৎকাল২. বিপদ্+সংকেত = বিপৎসংকেত৩. বিপদ্+সংকুল = বিপৎসংকুল৪. বিপদ্+সীমা = বিপৎসীমা আপদ্, বিপদ—আপদ্ ও বিপদ হচ্ছে… Continue reading আপৎ, বিপৎ, আপদ্, বিপদ

নেই/নিই, দেই/দিই-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

অনেক বাক্যেই আমাদেরকে নেই/নিই, দেই/দিই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক এদের পার্থক্য। নেওয়া/গ্রহণ অর্থে উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে ‘নিই’ বসবে। আমি  ও আমরা উত্তম পুরুষের অন্তর্ভুক্ত।যেমন—◾আমি যখন বরফখণ্ডটি হাতে নিই, তখনই তা গলতে শুরু করে।◾আমি প্রতিদিন তাকে কোলে নিই।◾আমরাই প্রথম এই উদ্যোগ নিই। না-বোধক বা নেতিবাচক অর্থে ‘নেই‘ বসবে। যেমন—◾আমার আর তিলমাত্র বাঁচার… Continue reading নেই/নিই, দেই/দিই-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

হৃৎ ও হৃদ্-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

হৃৎ—হৃৎ হচ্ছে সন্ধি ও সমাসে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত হৃদ্-এর রূপ। উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে হৃদ্-এর পরিবর্তে হৃৎ বসবে।যেমন—১. হৃদ্+কমল = হৃৎকমল২. হৃদ্+কম্প = হৃৎকম্প৩. হৃদ্+ পিণ্ড = হৃৎপিণ্ড৪. হৃদ্+স্পন্দন = হৃৎস্পন্দন হৃদ্—হৃদ্ হচ্ছে সন্ধি ও সমাসে গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ন,… Continue reading হৃৎ ও হৃদ্-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

বেশি, বেশী, ভাবি, ভাবী

বেশি—বেশি শব্দের অর্থ হচ্ছে অধিক, অতিশয়। অধিক, অতিশয় অর্থে ব্যবহৃত বেশি শব্দটি ফারসি শব্দ। বিদেশি শব্দের রীতি অনুযায়ী এই শব্দে হ্রস্ব-ই কার বসবে।যেমন—১. শিমুলের বাবা বেশিদিন আগে মারা যায়নি।২. বেশিরভাগ মানুষই করোনা নিয়ে তেমন সচেতন নয়। বেশী—বেশী শব্দের অর্থ হচ্ছে বেশধারী। বেশ+ইন্ = বেশী। ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার বসে।যেমন—১. ভদ্রবেশী লোকটির আসল রূপ… Continue reading বেশি, বেশী, ভাবি, ভাবী

বচন কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

বচন অর্থ সংখ্যার ধারণা। এটি ব্যাকরণের এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বচন মূলত বিশেষ্য বা সর্বনামকে নির্দিষ্ট করে। বচন দুই প্রকার—১. একবচন  ২. বহুবচন। একবচন একবচন সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনামের একটি সংখ্যা নির্দেশ করে।দৃষ্টান্ত :১. মেয়েটি ইশকুলে যায়।২. চোরটা পালিয়ে গেল। বহুবচন বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে তাকে বহুবচন বলে। গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ—গণ,… Continue reading বচন কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

কেন নাকি কেনো : কোনটি সঠিক ও কেন ?

কেন নাকি কেনো, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এটা সহজে মনে রাখার জন্যে আপনাকে যে-কোনো একটি মনে রাখলেই হবে। চলুন সহজ উপায় জেনে নেওয়া যাক। বাংলা অ-কারান্ত শব্দের শেষে ‘ও’ উচ্চারিত হলে বাংলা একাডেমির মতে কিছুক্ষেত্রে ও-কার লেখার সুযোগ  রয়েছে।তবে সব ক্ষেত্রেই ও-কার লেখা উচিত নয়।উপরিউক্ত শব্দ দুটির ব্যবহারে… Continue reading কেন নাকি কেনো : কোনটি সঠিক ও কেন ?

সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন : কোনটি সঠিক?

সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এটা সহজে মনে রাখার জন্যে আপনাকে যে-কোনো একটি মনে রাখলেই হবে। চলুন সহজ উপায় জেনে নেওয়া যাক। সর্বজনীন—সর্বজনীন শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সকলের জন্য হিতকর’, ‘সকলের জন্য প্রযোজ্য’।সকলের জন্য হিতকর বা সকলের জন্য প্রযোজ্য অর্থে সর্বজনীন শব্দটি ব্যবহৃত হবে।দৃৃৃষ্টান্ত :১. ১লা বৈশাখ… Continue reading সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন : কোনটি সঠিক?

মত নাকি মতো, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

মত নাকি মতো, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন। একসময় নিম্নোক্ত দুটি অর্থেই ‘মত’ বানানটি ব্যবহৃত হতো। তবে উচ্চারণ ও অর্থগত বিভ্রান্তি এড়াতে বাংলা একাডেমি সামান্য পরিবর্তন এনেছে। তবে বহুকাল আগে থেকে আমরা একটি বানানে অভ্যস্ত বলে নতুন বানানটিকে খুব অপরিচিত মনে হয়। শব্দ দুটি দেখলে যদিও অনেকটা একরকম মনে হয়।তবে… Continue reading মত নাকি মতো, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

ঃ (বিসর্গ) /: (কোলন)-এর ব্যবহার

কোলন ও বিসর্গ দুটি ভিন্ন জিনিস। এ দুটির ব্যবহারও ভিন্ন। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমরা কোলন এবং বিসর্গের ভুল ব্যবহার করে চলেছি। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোলন ও বিসর্গের ব্যবহার। কোলন (:) হচ্ছে একটি যতিচিহ্ন, এটি কোনো বর্ণ নয়।সাধারণত কোনো শব্দ বা বাক্যের অপূর্ণ অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অংশের সমন্বয় সাধনের জন্য কোলন ব্যবহার করা হয়। কোলন কখনও… Continue reading ঃ (বিসর্গ) /: (কোলন)-এর ব্যবহার

ঃ (বিসর্গ) /. (ডট)-এর ব্যবহার

বাংলা ভাষায় ডট (.) ছেদচিহ্ন হিসাবে ব্যবহৃত হয় না।বাংলায় ডট (.) ব্যবহৃত হয় শব্দকে সংক্ষেপে লিখতে, যদিও ডটকে বাংলা যতিচিহ্ন হিসাবে গণনা করা হয় না।আমরা শব্দকে সংক্ষেপে লেখার জন্য প্রায়ই বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার করে থাকি যেটা একেবারেই ভুল। শব্দকে সংক্ষেপ করতে বিসর্গ ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই।বাংলায় শব্দকে সংক্ষেপে লেখার জন্য ডট (.) ব্যবহারের বিধান রয়েছে।… Continue reading ঃ (বিসর্গ) /. (ডট)-এর ব্যবহার

পরা নাকি পড়া, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

পরা নাকি পড়া, কোনটা কোথায় লিখতে হবে সেটা নিয়ে অধিকাংশ মানুষই সচেতন নন। প্রায়ই অনেককে লিখতে দেখি ‘অনেকদিন পর আজ শাড়ি পড়লাম’, ‘আমি রাস্তায় পরে গিয়েছি’। কিন্তু একবার ভাবুন তো কেউ শাড়ি পড়ে কি না। আবার রাস্তায় কেউ পরে না।এগুলো যেমন ভুল তেমনই দৃষ্টিকটু। এই ভুলের উৎপত্তি ভুল উচ্চারণ থেকে। আসুন জেনে নিই পরা ও পড়া-এর… Continue reading পরা নাকি পড়া, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

পদাশ্রিত নির্দেশক – টি, টা, খানা, খানি প্রভৃতির ব্যবহার

প্রায় প্রতিটি বাক্যেই আমাদেরকে পদাশ্রিত নির্দেশক ব্যবহার করতে হয়। বহুল ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকগুলো হচ্ছে—টি, টা, খানা, খানি, টুকু, টুকুন, টাক, পাটি, কেতা, তা, গোটা। টি, টা—সাধারণত গণনা করা যায় এমন ব্যক্তি বা বস্তুর নির্দেশক হিসেবে টি, টা ব্যবহৃত হয়। তবে অল্প কিছু জায়গায় গণনা-অযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রেও টি, টা ব্যবহৃত হতে পারে।সাধারণত আদরার্থে ‘টি’ ব্যবহৃত হয়;… Continue reading পদাশ্রিত নির্দেশক – টি, টা, খানা, খানি প্রভৃতির ব্যবহার

ভাল নাকি ভালো, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

ভাল নাকি ভালো? কোনটি সঠিক বানান এটা নিয়ে অনেকের মাঝেই দ্বিধা দেখা যায়। অনেকে জানতেও চান যে, আসলে কোনটি সঠিক। একসময় মূলত ‘ভাল’ বানানটি দিয়ে নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ই বোঝানো হতো।তবে শব্দ দুটির উচ্চারণগত সুবিধা আনতে ও অর্থগত বিভ্রান্তি দূর করতে বাংলা একাডেমি নিম্নোক্ত বিষয় দুটির উচ্চারণ অনুযায়ী আলাদা প্রমিত বানান তৈরি করেছে। ভাল—ভাল শব্দটির অর্থ… Continue reading ভাল নাকি ভালো, কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

ভিতর/ভেতর, পিছন/পেছন, উঠা/ওঠা, উপর/ওপর

ভেতর, পেছন, ওঠা, ওপর—এই চারটি হচ্ছে চলিত শব্দ।চলিত বাক্যে ভেতর, পেছন, ওঠা, ওপর লিখুন।দৃষ্টান্ত : ১. কয়েদিকে কারাগারের ভেতরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হলো।২. এভাবে চললে আজীবন পেছনে পড়ে থাকবে।৩. তারা উভয়েই ধোঁয়া-ওঠা চায়ের পেয়ালার দিকে তাকিয়ে গল্প করা শুরু করলো।৪. তার ওপর আর ভরসা নেই। ভিতর, পিছন, উঠা, উপর—ভিতর, পিছন, উঠা, উপর হচ্ছে সাধু… Continue reading ভিতর/ভেতর, পিছন/পেছন, উঠা/ওঠা, উপর/ওপর

লেখা নাকি লিখা : কোনটি সঠিক ও কেন?

লেখা নাকি লিখা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষায় প্রয়োগ করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ এগুলোকে… Continue reading লেখা নাকি লিখা : কোনটি সঠিক ও কেন?

মান্ধাতার আমল অর্থ কী এবং এর উৎপত্তি কীভাবে?

মান্ধাতার আমল কথাটি আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। অতি প্রাচীন বোঝাতে আমরা সাধারণত মান্ধাতার আমল কথাটি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু মান্ধাতার আমল কথাটি কীভাবে এলো? এর পেছনে রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনি। মান্ধাতা ছিলেন সূর্য বংশের এক রাজা। রামচন্দ্রও পরে একই বংশে জন্মেছিলেন। সেই হিসাবে বলা যায় মান্ধাতা রামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ছিলেন। মান্ধাতার বাবা ছিলেন সূর্য বংশের রাজা… Continue reading মান্ধাতার আমল অর্থ কী এবং এর উৎপত্তি কীভাবে?

কি না নাকি কিনা : কোনটি সঠিক ও কেন?

কি না নাকি কিনা, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে বেশ সংশয়ে থাকতে হয়। আপাতদৃষ্টিতে দুটির অর্থ অনেকটা একরকম হলেও প্রয়োগে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ‘কিনা’ হচ্ছে বাক্যালংকার। বাক্যালংকার বাক্যের অপরিহার্য উপাদান নয়। মূলত বাক্যের অর্থের মাধুর্য রক্ষার জন্য বাক্যালংকার ব্যবহৃত হয়। ‘কিনা‘ ছাড়াও যদি বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তাহলে সেখানে বাক্যের মাধুর্য রক্ষার জন্য ‘কিনা‘ ব্যবহৃত… Continue reading কি না নাকি কিনা : কোনটি সঠিক ও কেন?

কি নাকি কী : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

অধিকাংশ লেখাতেই আমরা ‘কি‘ ও ‘কী‘ শব্দ দুটি প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি এবং অনেকেই ‘কি’ নাকি ‘কী’ লিখবেন সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েন। শব্দ দুটির উচ্চারণ এক হলেও প্রায়োগিক অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। শব্দ দুটির ভুল প্রয়োগের কারণে বাক্যের অর্থ একেবারেই বদলে যেতে পারে। উপরন্তু পাঠক আপনার লেখার মর্মার্থ উদ্ধার করতে অনেকসময় ঝামেলায়ও পড়তে পারে।এবার… Continue reading কি নাকি কী : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

সঠিক নাকি ঠিক : কোনটি শুদ্ধ বানান?

সঠিক নাকি ঠিক, এই দুইয়ের মধ্যে দুটিই শুদ্ধ নাকি একটি শুদ্ধ তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। মাঝে মাঝে অনেকে এটা নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধও বাধিয়ে ফেলেন রীতিমতো। অনেকের মতে সঠিক শব্দটি বাহুল্যদোষে আক্রান্ত। সঠিক শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত। ঠিক শব্দের সাথে স উপসর্গ যুক্ত হয়ে সঠিক শব্দটি গঠিত হয়েছে। স উপসর্গের অর্থ হচ্ছে অধিকতর, অতিশয়, সঙ্গে। অর্থগত দ্যোতনা… Continue reading সঠিক নাকি ঠিক : কোনটি শুদ্ধ বানান?