‘ইদ’ বানানটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক চলছে। কিছুদিন আগে এটা নিয়ে কয়েকটি পোস্ট আমার চোখে পড়েছে।
কয়েকজনের পোস্টে লেখা দেখলাম যে, খুশি বা ধর্মীয় উৎসব অর্থে ইদ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। তাদের যুক্তি অনুযায়ী ইদ নাকি একটি খারাপ বিষয় নির্দেশ করে। তাদের মতে ইদ শব্দের অর্থ নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব।

আসলেই কি তাই? প্রকৃতপক্ষে ইদ শব্দের অর্থ মাসিক বা ঋতুস্রাব নয়। আরবি ইদ্দত (عدة) শব্দের অর্থ ঋতুস্রাবকাল গণনা। ইদ্দত শব্দের আরও অর্থ আছে। যেমন—দিন, সংখ্যা। ইসলামে বহুল ব্যবহৃত ইদ্দতের অর্থ হচ্ছে ‘তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে পুনরায় বিয়ের উপযুক্ত হওয়া (শরিয়ত মোতাবেক) পর্যন্ত সময়কাল, যেটা স্ত্রীকে পালন করতে হয়।

কিছু ব্যক্তির ধারণা ইদ্দত শব্দের মধ্যে ইদ শব্দের সব বর্ণ আছে, এজন্য দুটোর অর্থ একই। একটা শব্দের মধ্যে আরেকটা শব্দের সকল বর্ণের অস্তিত্ব থাকলে যে দুটোর অর্থ একই হবে এটা চিন্তা করা অযৌক্তিক।

নিচের শব্দগুলো একটু লক্ষ করুন :
আল, আলু
কল, কলপ
চুল, চুলো
মন, মন্বন্তর
ঘর, ঘোরা
বার, বার্তা
নিদ, নিদারুণ
কর, করুণ

ওপরের শব্দজোড়াগুলোতে কিন্তু দ্বিতীয় শব্দটির মধ্যে প্রথম শব্দের উপস্থিতি বিদ্যমান। কিন্তু তারপরেও দুটি শব্দের মধ্যে অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাহলে ইদ্দত শব্দের মধ্যে ইদ শব্দের সকল বর্ণ থাকলে যে দুটো শব্দের একই অর্থ হবে সেটা নিতান্তই অবাস্তব। ইদ শব্দের অর্থ ঋতুস্রাব নয়।

উপরন্তু সব আরবি শব্দকে অবিকৃত উচ্চারণে বাংলায় লেখা সম্ভব নয় তার কারণ—বাংলা ধ্বনির উচ্চারণরীতি ও আরবি ধ্বনির উচ্চারণরীতি আলাদা। বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব অনুযায়ী হ্রস্ব ই ও দীর্ঘ ঈ স্বরের উচ্চারণ একই। যারা বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব বিস্তারিত পড়েছেন তারা এটা নিশ্চয়ই জানেন। বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব অনুযায়ী ইদঈদ—এই দুইয়ের উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্রষ্টব্য—তবে আপনি ‘ইদ’ লিখবেন নাকি ঈদ লিখবেন সেটা নিতান্তই আপনার ইচ্ছে।