খোঁজা নাকি খুঁজা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ এগুলোকে শুদ্ধ ও স্বাভাবিক বলে মনে করছে এবং নির্বিচারে তার প্রয়োগ করছে। ফলে দিনদিন এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে ভুল প্রয়োগ করছে।

এই যে, গেছি, বলসি, খাইসি প্রভৃতি বানানগুলোর কথা-ই ধরুন না। অনেকে রীতিমতো এগুলোকে একরকম প্রচলিত বানান বানিয়ে ফেলেছে। এই শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। চলুন খোঁজা নাকি খুঁজা, এদের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ বা অশুদ্ধ তা জেনে নেওয়া যাক।

খোঁজা—খোঁজা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে চলিত শব্দ। চলিত বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ‘খোঁজা’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. খোঁজাখুঁজি করলে পেয়ে যাবে।
২. গোরুখোঁজা কি এতই সহজ কাজ!
৩. ডুমুরের ফুল খোঁজা হাস্যকর কাজ।

তবে ক্রিয়াপদে রূপ পরিবর্তিত হয়ে খ-য়ে হ্রস্ব উ-কার ব্যবহৃত হতে পারে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. হারিয়ে গেলেও কেউ তাকে খোঁজেনি।
২. আমি আর তাকে খুঁজতে যাচ্ছি না।
৩. জিনিসটা খুঁজে পেলে আমাকে দিয়ে যেয়ো।
৪. আমি আজও তাকে খুঁজি।

খুঁজা—খুঁজা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে সাধু শব্দ। সাধু বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে খোঁঁজা’র পরিবর্তে ‘খুঁজা’ বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. মানুষ খুঁজা সহজ কার্য নহে।
২. খুঁজাখুঁজি করিয়া তাহাকে বাহির করা হইল।

ক্রিয়াপদে রূপান্তরের সময় খ-য়ে হ্রস্ব উ-কার বজায় থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. তাহাকে খুঁজিয়া খুঁজিয়া মরিতেছি।।
২. রমেন তাহাকে খুঁজিতেছে।
৩. রাফিনকে তিনদিন ধরিয়া খুঁজিতেছি।

সুপ্রিয় পাঠক, খোঁজা নাকি খুঁজা, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা বুঝতে পেরেছেন আশা করি।