গত ২/৩ দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমালোচিত বিষয় হচ্ছে গোরু বানান। অনেকে ভাবছেন যে গোরু বানানটি সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে। আমার কাছে থাকা অভিধান ঘাঁটাঘাঁটি করে যেটা পেলাম সেটা হচ্ছে সুবলচন্দ্র মিত্র সম্পাদিত আদর্শ বাঙ্গালা অভিধানে (প্রকাশকাল—১৯৩১, পৃষ্ঠা—৫৫৭) ‘গোরু’ বানানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

আমার কাছে থাকা নিম্নোক্ত অভিধানগুলোতেও গোরু বানানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়—

১. চলন্তিকা—আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান (প্রকাশকাল—১৯৩৭, পৃষ্ঠা—১৫৯)

২. বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (প্রকাশকাল—১৯৭৪, পৃষ্ঠা—৩৭৪)

৩. বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (প্রকাশকাল—১৯৯২, পৃষ্ঠা—১৫৮)

৪. বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (প্রকাশকাল—২০০০, পৃষ্ঠা—৩৭৪)

৫. বাংলাভাষায় প্রথম অন্ত্যমিল শব্দের অভিধান ‘মিত্রাক্ষর’ (প্রকাশকাল—২০০০, পৃষ্ঠা—১২৯)

৬. যার যা ধর্ম
বাংলা ভাষায় প্রথম ধর্ম অভিধান (প্রকাশকাল—২০০৯, পৃষ্ঠা—১৪৩)

৭. বাংলা একাডেমি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান (প্রকাশকাল—২০১৩, পৃষ্ঠা—৮৪৪)

৮. বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (প্রকাশকাল—২০১৬ বা সবশেষ, পৃষ্ঠা—৪১৮)

উপরিউক্ত অভিধানগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে গোরু বানানটি আজকের বানান নয়। অনেক আগে থেকেই অভিধানে গোরু বানানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৬ সালের সংস্করণে সেটাকে একমাত্র শুদ্ধ বানান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্রষ্টব্য—১. নাম বিবেচনায় অভিধানের নামের বানান অবিকৃত রাখা হয়েছে। ২. বাংলা একাডেমির জন্ম ১৯৫৫ সালে।