বোঝা নাকি বুঝা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ এগুলোকে শুদ্ধ ও স্বাভাবিক বলে মনে করছে এবং নির্বিচারে তার প্রয়োগ করছে। ফলে দিনদিন এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে ভুল প্রয়োগ করছে।

এই যে, গেছি, বলসি, খাইসি প্রভৃতি বানানগুলোর কথা-ই ধরুন না। অনেকে রীতিমতো এগুলোকে একরকম প্রচলিত বানান বানিয়ে ফেলেছে। এই শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। চলুন লেখা নাকি লিখা—এদের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ বা অশুদ্ধ তা জেনে নেওয়া যাক।

বোঝা—বোঝা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে চলিত শব্দ। চলিত বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ‘বোঝা’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. এসব বিষয় বোঝা আমার সাধ্যের বাইরে।
২. মানবীকে বোঝা সহজ কাজ নয়।
৩. তোমার পক্ষে বোঝা সম্ভব না হলে কারো থেকে বুঝে নাও।
৪. রসায়ন বোঝা কি এতই সহজ!
৫. মানুষের বোঝার ক্ষমতা তার জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে।

তবে ক্রিয়াপদে রূপ পরিবর্তিত হয়ে ব-য়ে হ্রস্ব উ-কার ব্যবহৃত হতে পারে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. রাতুল কিছুই বোঝে না।
২. আমি তোমার কথা বুঝতে পারি না। ।
৩. তোমাকে বোঝানো আমার পক্ষে অসম্ভব।
৪. মইনুলকে বিষয়টা বুঝিয়ে দাও।
৫. বুঝেশুনে কাজ কোরো।
৬. তুমি আমার কথা বোঝোনি।
৭. সে কোনোদিন আমাকে বোঝেনি।

বুঝা—বুঝা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে সাধু শব্দ। সাধু বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে বোঝা’র পরিবর্তে ‘বুঝা’ বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. চীনা ভাষা বুঝা সহজ নহে।
২. তোমার না বুঝার হেতু অদ্যাবধি আমার অগোচরে।
৩. হৈমন্তীকে বুঝা সহজ ছিল না তাহা নহে তথাপিও অপু চেষ্টা করেন নাই

ক্রিয়াপদে রূপান্তরের সময় ব-য়ে হ্রস্ব উ-কার বজায় থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. তোমার কথা বুঝিতেছি বটে।
২. কথা না বুঝিয়াই মোহনবাবু নরেনের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন।
৩. আমার কর্তব্য আমি করিয়াছি, সবকিছু বুঝাইয়া দিয়া চলিয়া আসিয়াছি।
৪. আমার কষ্টকর ব্যাপারখানা তুমি কেন বুঝিতেছ না!

সুপ্রিয় পাঠক, বোঝা নাকি বুঝা, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা বুঝতে পেরেছেন আশা করি।

দ্রষ্টব্য—বোঝা শব্দের আরেক অর্থ স্তূপ বা বড়ো গাঁটরি।