গত কয়েকদিনে আমাদের দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হচ্ছে মূর্তি ও ভাস্কর্য। অনেকের মতে মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; আবার অনেকের মতে মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটি আলাদা জিনিস।

আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্য নিরূপণ করছি না বা ধর্মীয় দিক দিয়ে তা বৈধ না অবৈধ তাও যাচাই করছি না। আমি শুধু বাংলায় শব্দ দুটির প্রয়োগ ও অর্থগত পার্থক্য দেখানোর চেষ্টা করছি।

মূর্তি—মূর্তি শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত থেকে। √মূর্ছ্+তি = মূর্তি। মূর্তি শব্দের কতগুলো অর্থ আছে—দেহ, আকৃতি, রূপ, প্রতিমা। এদের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত অর্থ হচ্ছে প্রতিমা। মূর্তি হচ্ছে দেব-দেবী বা অন্য পূজ্য কোনোকিছুর প্রাণহীন অবয়ব। অর্থাৎ মূর্তি সাধারণত পুজোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।

স্থায়িত্বের দিক দিয়ে মূর্তি স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয়ই হতে পারে। মাটির তৈরি মূর্তিগুলো সাধারণত অস্থায়ী হয়। অধিকাংশ মূর্তিই মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে সোনা, ব্রোঞ্জ, মোম প্রভৃতির তৈরি মূর্তিও দেখা যায়। মূর্তি ধর্মীয় প্রার্থনার কাজে ব্যবহৃত হয়।

ভাস্কর্য—ভাস্কর্য শব্দটির উৎপত্তিও সংস্কৃত থেকে। ভাস্+ √কৃ+য = ভাস্কর্য। ভাস্কর্য হচ্ছে পাথর, কাঠ বা ধাতু প্রভৃতি খোদাই করে নির্মিত শিল্পকর্ম। কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি বা বস্তুর অবয়ব জনসমক্ষে প্রদশর্নের জন্যে ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।

প্রচুর জনসমাগম হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্য দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। সাধারণত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সবার সামনে উপস্থাপনই ভাস্কর্যের উদ্দেশ্য। এখানে ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য থাকে না বললেই চলে।

মূর্তি ও ভাস্কর্য আকৃতিগত দিক দিয়ে অনেকটা কাছাকাছি হলেও তাদের প্রধান পার্থক্য নির্মাণের উদ্দেশ্যে।