লেখা নাকি লিখা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। এই সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে মুখের ভাষাকে লেখার ভাষায় প্রয়োগ করা। আমরা সারাক্ষণ যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো ভুল হলেও ধীরে ধীরে তা আমাদের কাছে মনের অজান্তেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বানানের যাচ্ছেতাই প্রয়োগের কারণে মানুষ এগুলোকে শুদ্ধ ও স্বাভাবিক ধরে নিচ্ছে এবং নির্বিচারে তার প্রয়োগ করছে। ফলে দিনদিন এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে ভুল প্রয়োগ করছে।

এই যে, গেছি, বলসি, খাইসি প্রভৃতি বানানগুলোর কথা-ই ধরুন না। অনেকে রীতিমতো এগুলো একরকম প্রচলিত বানিয়ে ফেলেছে।  এই শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। চলুন লেখা নাকি লিখা—এদের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ বা অশুদ্ধ তা জেনে নেওয়া যাক।

লেখা—লেখা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে চলিত শব্দ। চলিত বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে “লেখা” শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. তার হাতের লেখা খুব সুন্দর।
২. মেয়েলি হাতের লেখা দেখেই অনুমান করা যায়।
৩. আমি লেখাটা শেষ করে তোমার কথা শুনব।
৪. লেখাপড়া বন্ধ না করে চালিয়ে যাও।
৫. বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা পড়তে আমার খুব কষ্ট হয়।

তবে ক্রিয়াপদে প্রায়ই রূপ পরিবর্তন হয়ে ল-য়ে হ্রস্ব ই-কার ব্যবহৃত হয়ে থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. রাহিন তার ভাইকে চিঠি লিখেছে।
২. মাসুম খুব ভালো গল্প লেখে।
৩. আমি একটা কবিতা লিখেছি।
৪. আমি খুব শীঘ্রই তোমাকে চিঠি লিখে জানাব।

লিখা—লিখা হচ্ছে বিশেষ্য হিসেবে সাধু শব্দ। সাধু বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে লেখা’র পরিবর্তে লিখা বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. তাহার লিখা আমার বোধগম্য নহে।
২. তাহার হস্তলিখা পরিপাট্য-বিবর্জিত।
৩. উপন্যাস লিখা সহজ কার্য নহে।

ক্রিয়াপদে রূপান্তরের সময় ল-য়ে হ্রস্ব ই-কার বজায় থাকে।
দৃষ্টান্ত :
১. মহেন্দ্রবাবু পত্র লিখিয়া চাকরের দ্বারা প্রেরণ করিলেন।
২. লিখিব লিখিব করিতেছি বটে কিন্তু সম্ভবপর হইয়া উঠিতেছে না।
৩. তিনি এমন কথা লিখিবেন ইহা আমার ভাবনারও অতীত।
৪. কবিতায় আর কী লিখিব, রক্ত দিয়া লিখিয়া তোমার নাম।

সুপ্রিয় পাঠক, লেখা নাকি লিখা, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা বুঝতে পেরেছেন আশা করি।