কি না নাকি কিনা : কোনটি সঠিক ও কেন?

কি না নাকি কিনা, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে বেশ সংশয়ে থাকতে হয়। আপাতদৃষ্টিতে দুটির অর্থ অনেকটা একরকম হলেও প্রয়োগে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

‘কিনা’ হচ্ছে বাক্যালংকার। বাক্যালংকার বাক্যের অপরিহার্য উপাদান নয়। মূলত বাক্যের অর্থের মাধুর্য রক্ষার জন্য বাক্যালংকার ব্যবহৃত হয়।

কিনা‘ ছাড়াও যদি বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তাহলে সেখানে বাক্যের মাধুর্য রক্ষার জন্য ‘কিনা‘ ব্যবহৃত হবে।
১. তুমি কিনা আমাকে ধোঁকা দিলে?
২. সে কিনা আমাকে ভয় দেখায়! 

পক্ষান্তরে ‘কি না‘ হচ্ছে বাক্যের অপরিহার্য উপাদান। এই ‘কি না‘ ছাড়া বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট থেকে যাবে।
বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট থাকলে, সন্দেহ বা সংশয় প্রকাশে সেখানে ‘কি না‘ ব্যবহৃত হবে।
১. সে আজ ঢাকায় যাবে কি না তা আমার জানা নেই।
২. তুমি আমার সঙ্গে যাবে কি না ?

সুপ্রিয় পাঠক, আশা করি ‘কি না’ নাকি ‘কিনা’, সেটা বুঝতে পেরেছেন। বাংলা একাডেমির অভিধানসহ অন্যান্য ব্যাকরণে এটাই পাওয়া যায়।

কি নাকি কী : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

অধিকাংশ লেখাতেই আমরা ‘কি‘ ও ‘কী‘ শব্দ দুটি প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি এবং অনেকেই ‘কি’ নাকি ‘কী’ লিখবেন সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েন। শব্দ দুটির উচ্চারণ এক হলেও প্রায়োগিক অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। শব্দ দুটির ভুল প্রয়োগের কারণে বাক্যের অর্থ একেবারেই বদলে যেতে পারে। উপরন্তু পাঠক আপনার লেখার মর্মার্থ উদ্ধার করতে অনেকসময় ঝামেলায়ও পড়তে পারে।
এবার জেনে নেওয়া যাক ‘কি‘ নাকি ‘কী‘, কখন কোথায় লিখবেন।

প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দ্বারা দেওয়া সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে ‘কি‘ বসে।

১. তুমি কি কালই চলে যাবে?
উত্তর : হ্যাঁ যাব/না, যাব না।
২. তোমার বাবা কি বাড়িতে আছেন?
উত্তর : হ্যাঁ আছেন/না, নেই।
৩. তুমি কি ব্যস্ত আছ?
উত্তর : হ্যাঁ আছি/না, নেই।
৪. সে কি আজও আমাকে মনে রেখেছে?
উত্তর : হ্যাঁ রেখেছে/না, রাখেনি।
৫. আপনি কি আমার জন্যে অপেক্ষা করবেন?
উত্তর : হ্যাঁ করব/না, করব না।

প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দ্বারা দেওয়া সম্ভব না হয় অর্থাৎ উত্তর যদি বর্ণনামূলক হয় সেক্ষেত্রে ‘কী‘ বসে।
১. তোমার কী প্রয়োজন?
উত্তর : মহারাজ, দুমুঠো ভাত জুটলে তাতেই হবে।
২. তুমি কী খাবে?
উত্তর : চা অথবা কফি যে-কোনো একটা হলেই চলবে।
৩. তুমি তাকে কী বলেছ?
উত্তর : তেমন কিছুই বলিনি/সামান্য কিছু বলেছি।
৪. সে আমার সম্পর্কে কী বলেছে?
উত্তর : তেমন কিছুই বলেনি/অনেককিছুই বলেছে।
৫. তোমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কী পড়ান?
উত্তর : বাংলা, গণিত ও ইংরেজি।

দুই শব্দের মধ্যে তুলনায় ‘কি’ বসে।
১. মাঘ কি পৌষ হবে, তখন আমি বাড়িতে এলাম।
২. কি দিন কি রাত, সে সবসময় কাজ করে।

বাক্যের মাধুর্য বৃদ্ধির জন্যে ‘কি’ সাধারণত বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়। এটা অপরিহার্য নয়।
১. তোমার কথাই ভাবছিলাম আর কি।
২. কোনোরকমে দিন যাচ্ছে আর কি।

মাঝে মাঝে বিস্ময় প্রকাশে ‘কি’ বাক্যের প্রথম দিকেও বসতে পারে।
১. এ কি তুমি কখন এলে?
২. এ কি সত্য সকলই সত্য, হে আমার চিরভক্ত।

প্রশ্নবোধক বাক্য ছাড়াও অন্য বাক্যে ‘কী’ বসে।
১. জানি না সে কী করছে।
২. কী অপরূপ সকাল!

নিম্নোক্ত শব্দগুলোতে সবসময় হ্রস্ব ই-কার(ি) বসবে—কিরে, বইকি, এমনকি,

অধিকাংশ লেখাতেই আমরা ‘কি‘ ও ‘কী‘ শব্দ দুটি প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি এবং অনেকেই ‘কি’ নাকি ‘কী’ লিখবেন সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েন। শব্দ দুটির উচ্চারণ এক হলেও প্রায়োগিক অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। শব্দ দুটির ভুল প্রয়োগের কারণে বাক্যের অর্থ একেবারেই বদলে যেতে পারে। উপরন্তু পাঠক আপনার লেখার মর্মার্থ উদ্ধার করতে অনেকসময় ঝামেলায়ও পড়তে পারে।
এবার জেনে নেওয়া যাক ‘কি‘ নাকি ‘কী‘, কখন কোথায় লিখবেন।

প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দ্বারা দেওয়া সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে ‘কি‘ বসে।

১. তুমি কি কালই চলে যাবে?
উত্তর : হ্যাঁ যাব/না, যাব না।
২. তোমার বাবা কি বাড়িতে আছেন?
উত্তর : হ্যাঁ আছেন/না, নেই।
৩. তুমি কি ব্যস্ত আছ?
উত্তর : হ্যাঁ আছি/না, নেই।
৪. সে কি আজও আমাকে মনে রেখেছে?
উত্তর : হ্যাঁ রেখেছে/না, রাখেনি।
৫. আপনি কি আমার জন্যে অপেক্ষা করবেন?
উত্তর : হ্যাঁ করব/না, করব না।

প্রশ্নের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দ্বারা দেওয়া সম্ভব না হয় অর্থাৎ উত্তর যদি বর্ণনামূলক হয় সেক্ষেত্রে ‘কী‘ বসে।
১. তোমার কী প্রয়োজন?
উত্তর : মহারাজ, দুমুঠো ভাত জুটলে তাতেই হবে।
২. তুমি কী খাবে?
উত্তর : চা অথবা কফি যে-কোনো একটা হলেই চলবে।
৩. তুমি তাকে কী বলেছ?
উত্তর : তেমন কিছুই বলিনি/সামান্য কিছু বলেছি।
৪. সে আমার সম্পর্কে কী বলেছে?
উত্তর : তেমন কিছুই বলেনি/অনেককিছুই বলেছে।
৫. তোমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কী পড়ান?
উত্তর : বাংলা, গণিত ও ইংরেজি।

দুই শব্দের মধ্যে তুলনায় ‘কি’ বসে।
১. মাঘ কি পৌষ হবে, তখন আমি বাড়িতে এলাম।
২. কি দিন কি রাত, সে সবসময় কাজ করে।

বাক্যের মাধুর্য বৃদ্ধির জন্যে ‘কি’ সাধারণত বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়। এটা অপরিহার্য নয়।
১. তোমার কথাই ভাবছিলাম আর কি।
২. কোনোরকমে দিন যাচ্ছে আর কি।

মাঝে মাঝে বিস্ময় প্রকাশে ‘কি’ বাক্যের প্রথম দিকেও বসতে পারে।
১. এ কি তুমি কখন এলে?
২. এ কি সত্য সকলই সত্য, হে আমার চিরভক্ত।

প্রশ্নবোধক বাক্য ছাড়াও অন্য বাক্যে ‘কী’ বসে।
১. জানি না সে কী করছে।
২. কী অপরূপ সকাল!

নিম্নোক্ত শব্দগুলোতে সবসময় হ্রস্ব ই-কার(ি) বসবে—কিরে, বইকি, এমনকি, কিনা, কি না, নাকি।

সঠিক নাকি ঠিক : কোনটি শুদ্ধ বানান?

সঠিক নাকি ঠিক, এই দুইয়ের মধ্যে দুটিই শুদ্ধ নাকি একটি শুদ্ধ তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।
মাঝে মাঝে অনেকে এটা নিয়ে বাগ্‌যুদ্ধও বাধিয়ে ফেলেন রীতিমতো। অনেকের মতে সঠিক শব্দটি বাহুল্যদোষে আক্রান্ত। সঠিক শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত। ঠিক শব্দের সাথে উপসর্গ যুক্ত হয়ে সঠিক শব্দটি গঠিত হয়েছে। উপসর্গের অর্থ হচ্ছে অধিকতর, অতিশয়, সঙ্গে।

অর্থগত দ্যোতনা বিচারে সঠিক শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘অতিশয় বা অধিকতর ঠিক’। মূলত ঠিক শব্দের অর্থে জোর প্রদানের জন্য উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
সঠিক শব্দের উপসর্গ বাহুল্য হলে অভিধান থেকে এমন উপসর্গযুক্ত কয়েকডজন শব্দই বাদ দিতে হবে। তাছাড়া বাংলা একাডেমির সবশেষ সংস্করণের অভিধানেও সঠিক বানানটিকে শুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কিছু কিছু উপসর্গ আছে যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে অনর্থক মনে হলেও তারা শব্দের যথাযথ অর্থ প্রকাশে সহায়তা করে। সঠিক শব্দটির তুলনায় ঠিক শব্দটির প্রয়োগক্ষেত্র ব্যাপক। তবে সঠিক  শব্দটিকে ভুল বলার সুযোগ নেই

সঠিক—সঠিক শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, প্রকৃত।
দৃষ্টান্ত :
১. সে আমাকে সঠিক তথ্যই দিয়েছিল।
২. তোমার উত্তর একেবারেই সঠিক।

ঠিক—ঠিক শব্দের অর্থ হচ্ছে সত্য, নির্ভুল, স্থিরীকৃত, কম বা বেশি নয় এমন, সম্পূর্ণ, হুবহু, প্রস্তুত, পরিপাটি।
দৃষ্টান্ত :
১. তোমার কথাই ঠিক।
২. রহিমার বাবা তার (রহিমার) বিয়ে ঠিক করেছেন।
৩. ঠিকমতো ওষুধ খেয়ো।
৪. সুন্দরবনে যাওয়ার জন্যে নৌকা ঠিক করা হয়েছে।
৫. পরীক্ষার খাতায় ঠিক ঠিক উত্তর লিখবে।
৬. ঠিক দশটার সময় সে বাড়ি এসে পৌঁছাল।
৭. আঞ্জুমান সব কাজ ঠিকমতো করে।

সুপ্রিয় পাঠক, উদাহরণগুলো পড়ে নিশ্চয় সঠিক নাকি ঠিক, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে তা অনুমান করতে পেরেছেন।
সঠিক শব্দটি ভুল নয়, আপনি নির্দ্বিধায় সঠিক শব্দটি ব্যবহার করতে পারেন।