‘দি’ ধাতুর রূপ

দি ধাতু বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি ধাতু। আজকাল আমরা অনেকেই মুখের ভাষাকেই লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমরা মৌখিক ভাষার সঙ্গে এত বেশি পরিচিত হয়ে গিয়েছি যে, আজকাল এগুলোকেই শুদ্ধ ও লেখার ভাষা মনে হয়।

আর এই কারণেই আমরা দি ধাতুর ভুল প্রয়োগ করছি প্রতিনিয়ত। চলুন জেনে নিই দি ধাতুর চলিত রূপগুলো।

ক. ব্যক্তি নিজে কাজ করলে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
দিতাম, দিয়েছিলাম, দিচ্ছিলাম, দিলাম, দিয়েছি, দিচ্ছি, দিই, দেবো, দিতে, দিয়েছিলে, দিচ্ছিলে, দিলে, দিয়েছ, দিচ্ছ, দাও, দিয়ো, দেবে, দিতি (স), দিয়েছিলি, দিচ্ছিলি,
দিলি, দিয়েছিস, দিচ্ছিস, দিস, দিবি, দে, দিত, দিয়েছিল, দিচ্ছিল, দিলো, দিয়েছে, দিচ্ছে, দেয়, দেবে, দিক,
দিতেন, দিয়েছিলেন, দিচ্ছিলেন, দিলেন, দিয়েছেন, দিচ্ছেন, দেন, দেবেন, দিন, দিয়ে।
প্রয়োগ :
১. আমি রোজই তাকে কল দিতাম।
২. আমি তাকে একটা ডায়ারি উপহার দিয়েছিলাম।
৩. আমি তাকে তাড়া দিচ্ছিলাম কারণ আমি তখন ব্যস্ত ছিলাম।
৪. আমার সবকিছু তোমাকে দিয়ে দিলাম।
৫. আমি বৃদ্ধটাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।
৬. আমরাই তাকে প্রথম এই সুযোগটি দিই।
৭. আমি এই অবস্থায় তোমাকে যেতে দেবো না।
৮. কষ্ট করে আসার কী দরকার ছিল, আমাকে একটা কল দিতে।
৯. যখন তুমি খুদে বার্তা দিয়েছিলে তখন আমি মুঠোফোনের পাশে ছিলাম না।
১০. বারবার কেন আমাকে ডাক দিচ্ছিলে?
১১. আমাকে আজও খবরটা দিয়েছ?
১২. দিচ্ছ ভীষণ যন্ত্রণা, বুঝতে কেন পারছ না ছাই মানুষ আমি যন্ত্র না।
১৩. আমাকে আরেকবার সুযোগ দাও।
১৪. হলুদ খামে হলেও পত্র দিয়ো।
১৫. আমাকে রশিদের বাড়ির ঠিকানাটা দেবে?
১৬. সে আমাকে খবর দিক আর না-ই দিক, আমি যাবই।
১৭. তিনি আমাকে খুব ভালো উপদেশ দিতেন।
১৮. তিনি আমাকে একটা টাকার খাম দিয়েছিলেন।
১৯. তিনি আমাকে বারবার কেন খবর দিচ্ছিলেন তা আমি বুঝছিলাম না।
২০. তিনি খুশি হয়ে আমাকে ৫০০০ টাকা উপহার দিলেন।
২১. বাবা আমাকে অনেককিছুই দিয়েছেন।
২২. তিনি আমাকে রোজ কল দিচ্ছেন।
২৩. আমাকে কিছু টাকা ধার দেন/দিন।
২৪. সে এলে আমাকে ডাক দেবেন।
২৫. তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।
২৬. আমি এখনই তার টাকা দিয়ে দিচ্ছি।
২৭. আমাকে কেন এই অপবাদ দিলে?
২৮. আমাকে একবার খবরটা দিতি (স)।
২৯. আমাকে তখন অযথা কেন ডাক দিয়েছিলি?
৩০. আমাকে কেন অনবরত ডাক দিচ্ছিলি?
৩১. আমাকে কতটুকু সম্মান দিয়েছিস?
৩২. আমাকে কেন দোষ দিচ্ছিস?
৩৩. পরীক্ষার খাতায় ঠিকমতো উত্তর দিস।
৩৪. ভোরবেলা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দিবি।
৩৫. তোর মাকে তাড়াতাড়ি ডাক দে।
৩৬. সে আমাকে প্রায়ই পত্র দিত।
৩৭. সে আমাকে একটা দামি কলম দিয়েছিল।
৩৮. সে আমার কাজ করে দিচ্ছিল, তাই আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
৩৯. সে অবশেষে আমার চিঠির জবাব দিলো।
৪০. বিপিন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে।
৪১. সে আমাকে যেতে দিচ্ছে না।
৪২. সে-ই আমাকে সব খবর দেয়।

খ. ব্যক্তি অন্যের দ্বারা কাজ করালে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
দেওয়াতাম, দিইয়েছিলাম, দেওয়াচ্ছিলাম, দেওয়ালাম, দিইয়েছি, দেওয়াচ্ছি, দেওয়াই, দেওয়াব, দেওয়াতে, দিইয়েছিলে, দেওয়াচ্ছিলে, দেওয়ালে, দিইয়েছ,
দেওয়াচ্ছ, দেওয়াও, দিইয়ো, দেওয়াবে, দেওয়াতি, দিইয়েছিলি, দেওয়াচ্ছিলি, দেওয়ালি, দিইয়েছিস, দেওয়াচ্ছিস, দেওয়াস, দেওয়াবি, দেওয়া, দেওয়াত, দিইয়েছিল, দেওয়াচ্ছিল, দেওয়ালো, দিইয়েছে, দেওয়াচ্ছে, দেওয়ায়, দেওয়াবে, দেওয়াক, দেওয়াতেন, দিইয়েছিলেন, দেওয়াচ্ছিলেন, দেওয়ালেন, দিইয়েছেন, দেওয়াচ্ছেন, দেওয়াবেন, দেওয়ান।
প্রয়োগ :
১. প্রয়োজন হলে আমি সিজানকে দিয়ে তোমাকে খবর দেওয়াতাম।
২. দারোয়ানের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিইয়েছিলাম।
৩. আরে তুমি এসে পড়েছ! আমি তো বিপুলের মাধ্যমে তোমাকে খবর দেওয়াচ্ছিলাম।
৪. শিমুকে দিয়ে রশিদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ালাম।
৫. তারেককে দিয়ে তোমার বাড়িতে খবর দিইয়েছি।
৬. আমি এখনই তাকে খবর দেওয়াচ্ছি।
৭. তাহলে তোমাকে দিয়েই তোমার মাকে খবরটা দেওয়াব।
৮. তাকে দিয়ে আমাকে একটা কল দেওয়াতে।
৯. তুমিই তো নাহিদের মাধ্যমে আমাকে খবরটা দিইয়েছিলে।
১০. বারবার পুলিশ দিয়ে কেন আমাকে হুমকি দেওয়াচ্ছিলে?
১১. আমাকে কেন পিয়ন দিয়ে চিঠি দেওয়ালে, তুমি তো নিজে আসতে পারতে।
১২. শুনলাম তুমি নাকি জিসানকে ঘুস দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ দিইয়েছ!
১৩. কেন বারবার আমাকে হুমকি দেওয়াচ্ছ?
১৪. তুমি তাকে দিয়ে যতই পত্র দেওয়াও না কেন, কোনো লাভ হবে না।
১৫. রাতুলের মাধ্যমে আমার জিনিসটা বাড়িতে পৌঁছে দিইয়ো।
১৬. আমাকে দিয়ে আর কতবার পরীক্ষা দেওয়াবে?
১৭. তোর ভাইকে দিয়ে আমাকে অন্তত একবার ডাক দেওয়াতি।
১৮. তুই তো টুটুলের মাধ্যমে আমাকে খবরটা দিইয়েছিলি।
১৯. কেন অসীমকে দিয়ে আমাকে অনবরত কল দেওয়াচ্ছিলি?
২০. তুই কেন তাকে দিয়ে আমাকে হুমকি দেওয়ালি?
২১. তুই কেন তাকে দিয়ে খবর দিইয়েছিস, নিজে তো বলতে পারতিস।
২২. কুবুদ্ধি করে তাকে দিয়ে কেন আমাকে কষ্ট দেওয়াচ্ছিস?
২৩. তাকে দিয়ে আমাকে একটা কল দেওয়াস।
২৪. বাড়িতে গিয়ে তোর আম্মাকে দিয়ে আমাকে কল দেওয়াবি।
২৫. আমাকে অন্তত একবার তাকে দিয়ে চিঠি দেওয়া।
২৬. সে আমাকে গুন্ডা দিয়ে হুমকি দেওয়াত।
২৭. সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাকে চাকরিটা পাইয়ে দিইয়েছিল।
২৮. সে আমাকে অনবরত খবর দেওয়াচ্ছিল।
২৯. সে শেষ পর্যন্ত আমাকে নোটিশ দেওয়ালো।
৩০. সে পাপলুকে দিয়ে আমাকে খবর দিইয়েছে।
৩১. সে আমাকে অন্যের মাধ্যমে সুযোগ দেওয়াচ্ছে।
৩২. সে আজও আমাকে অন্যের মাধ্যমে খবর দেওয়ায়।
৩৩. আর কতবার আমাকে খবর দেওয়াবে?
৩৪. সে পারে তো আমাকে জেলে দেওয়াক।
৩৫. রাজা প্রহরীর মাধ্যমে দুস্থদেরকে খাবার দেওয়াতেন।
৩৬. রাজা পেয়াদা পাঠিয়ে গোপালকে খবর দিইয়েছিলেন।
৩৭. মুঠোফোনে না পেয়ে তিনি আমাকে লোক দিয়ে খবর দেওয়াচ্ছিলেন।
৩৮. বড়ো ভাই মাকে দিয়ে আমাকে বকা দেওয়ালেন।
৩৯. অফিসে না যাওয়ায় বড়োকর্তা আমাকে খবর দিইয়েছেন।
৪০. তাকে দিয়ে কেন আমাকে বারবার কল দেওয়াচ্ছেন?
৪১. তাকে বলে আমাকে একবার এই চলচ্চিত্রটিতে সুযোগ দেওয়াবেন?
৪২. রাজা প্রহরীকে দিয়ে গোপালকে বলে দেওয়ান যে, গোপালকে তাড়াতাড়ি প্রাসাদে হাজির হতে হবে।

দ্রষ্টব্য—ওপরের ধাতুরূপগুলো বাদে দি ধাতুর বাকি সব রূপই আঞ্চলিক ও সাধু।

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ?

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। বর্তমানে ফোন বা মুঠোফোন একটি বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। ছেলে-বুড়ো সবাই আজকাল এসব ব্যবহার করে অভ্যস্ত। অনেকের মুখেই শুনি ফোন দেওয়ার কথা। কিন্তু কারো সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া কি আসলেই শুদ্ধ?

ফোন দেওয়া মানে দাঁড়ায়—কেউ কাউকে একটা ফোন উপহার দিচ্ছে।  অবশ্য আমরা এটার অর্থের দিক বিবেচনা না করেই এটা ব্যবহার করে থাকি। আমরা মূলত যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া কথাটি ব্যবহার করি।

কিন্তু যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া বলা যুক্তিযুক্ত নয়, কারণ আমরা যোগাযোগ করি মাত্র; ফোনটা তাকে দিয়ে দিই না। এটার ইংরেজি হয়—give me a call/give me a ring; ভেবে দেখুন তো ইংরেজি বাক্যেও কিন্তু ফোন দেওয়ার কথা বোঝাচ্ছে না। ফোন করা, কল করা বা কল দেওয়া বোঝাচ্ছে।

তাছাড়া ইংরেজিকে বাংলাতে হুবহু বলা সম্ভবও নয়। অনেকে হয়তো বলবেন যে, কল করা, কল দেওয়া বা ফোন করা শব্দের মধ্যেও তো ইংরেজি শব্দ আছে। হ্যাঁ আছে, তবে এমন কিছু ইংরেজি শব্দ আছে যেগুলোর বাংলা করতে গেলে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়ে উঠবে না।

আর এই কারণেই আমরা এরকম ইংরেজি-বাংলা মিশ্রিত শব্দ ব্যবহার করতে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য। আপনি যদি ফোন করা, কল দেওয়া বা কল করার বাংলা করতে যান, তাহলে অনেকেই আপনার কথার প্রকৃত অর্থ বুঝবে না।

মুঠোফোনে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা অর্থে ফোন করা, কল করা বা কল দেওয়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে কেউ কাউকে ফোন, মোবাইল বা মুঠোফোন কিনে দিলে বা উপহার দিলে ফোন দেওয়া বলতে পারি; সেটা অন্য ব্যাপার।


সুপ্রিয় পাঠক, ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ সেটা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়।

‘ভিত্তিক’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

ভিত্তিক’ শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে গণমাধ্যমে এটার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
তবে আমরা অনেকেই শব্দটির ভুল প্রয়োগ করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শব্দটি একসঙ্গে লিখতে হবে না আলাদাভাবে লিখতে হবে।

শেষে ‘ভিত্তিক’ যুক্ত আছে এমন শব্দ সাধারণত সমাসবদ্ধ শব্দ হয়ে থাকে। আর সমাসবদ্ধ শব্দ সাধারণত একসঙ্গে বসে। ‘ভিত্তিক’ শব্দটি সবসময় আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. আল-জাজিরা হচ্ছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম।
২. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্যে মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
৩. কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা-ই আজকের আধুনিক সভ্যতার শেকড়।
৪. প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গড়তে ইন্টারনেটের দাম কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সুধীজনরা।
৫. যুক্তিভিত্তিক বক্তব্য আমি বরাবরই পছন্দ করি।
৬. অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে, চুক্তিভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র অর্থনীতির জন্যে ভালো নয়।
৭. ফেসবুকভিত্তিক ব্যাবসা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
৮. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর।

শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি

শ্যাম রাখি না কুল রাখি একটি বহুল প্রচলিত বাগ্‌ধারা। চলুন জেনে নিই এর পেছনের ইতিহাস। শ্যাম হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম। রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়ের কাহিনি শোনেননি এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রেমের ইতিহাসে তাঁরা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা চিরদিন বেঁচে থাকার যোগ্য।

প্রথমদিকে কৃষ্ণ রাধার জন্যে কাতর থাকতেন। রাধার চিন্তায় হয়ে উঠতেন অধীর, ছন্নছাড়া। কিন্তু প্রথমে তিনি রাধার থেকে উপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই পাননি। কিছুদিন পরেই ঘটনা পালটে যায়। যে রাধা তাঁকে উপেক্ষা করেছিলেন সেই রাধা-ই তাঁর জন্যে অধীর হওয়া শুরু করেছেন।

কিন্তু উপেক্ষা সহ্য করতে করতে কৃষ্ণের তৃষ্ণার মাত্রা কিছুটা কমে যায়। কিন্তু তখন অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, রাধা কৃষ্ণকে ছাড়া বাঁচবেনই না।
কিন্তু রাধা ও কৃষ্ণের সামাজিক যে মামি-ভাগ্নের সম্পর্ক, সেখানে মিলন হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।

রাধার ছিল কুল (জাত) যাওয়ার ভয়, কারণ সে ছিল অন্যের স্ত্রী। তিনি যদি কৃষ্ণকে পেতে চান তাহলে তাঁর জাত বা কুল যাবে। আবার কৃষ্ণকে তিনি হারাতে চান না, কারণ তখন কৃষ্ণকে ছাড়া তাঁর বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

রাধা না পারছিলেন কৃষ্ণের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে, কারণ কৃষ্ণ তাঁকে ঠিক আগের মতো ভালোবাসেন না। আবার সেটা সম্ভব হলেও লোকলজ্জা, জাত যাওয়ার চিন্তা। তিনি কোনটাকে বেছে নেবেন! কারণ তাঁর কাছে কোনোটাকেই ছেড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না।

এই দোটানা অবস্থা থেকেই শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি। কেউ যখন দুটো বিকল্পের মধ্যে একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটাকে গ্রহণ করতে পারেন না তখন সাধারণত শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটি ব্যবহার করা হয়।

সম্পন্ন কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে বসে?

সম্পন্ন শব্দটির ভুল ব্যবহার প্রতিনিয়তই আমাদের চোখে পড়ে।
মূলত শব্দটির অবস্থানগত কারণে অর্থবিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য একটি নিয়ম মনে রাখলে শব্দটির ভুল প্রয়োগ এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই ‘সম্পন্ন’ কখন, কোথায় ও কীভাবে লিখবেন।

ক.সম্পন্ন’ শব্দটি দিয়ে সম্পৎশালী, সমাপ্ত বা সম্পূর্ণ বোঝালে তা আলাদাভাবে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. জহুরুল সাহেবের কুলখানি সম্পন্ন হয়েছে।
২. এই কাজ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৩০ দিন সময় লাগবে।
৩. সে একটা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে।

খ.সম্পন্ন’ শব্দটি দিয়ে আছে এমন বা কোনোকিছুতে পরিপূর্ণ বোঝালে তা আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. তিনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
২. ইউনুস সাহেব একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি।
৩. প্রাচীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারেন না।
৪. তোমার মতো বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের থেকে এমন কাজ আশা করিনি।
উল্লেখিত/উল্লিখিত