উঠা/ওঠা, উঠে/ওঠে

উঠা/ওঠা, উঠে/ওঠে ইত্যাদি শব্দগুলো আমরা প্রায়ই ব্যবহৃত হতে দেখি কিন্তু এগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও পার্থক্য সম্পর্কে জানি না।
চলুন উপরিউক্ত শব্দগুলোর পার্থক্য ও ব্যবহার জেনে নিই।

উঠা—উঠা হচ্ছে সাধু শব্দ। সাধু বাক্যে উঠা ব্যবহৃত হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. তাহার পক্ষে সূর্যোদয়ের পূর্বে  নিদ্রা হইতে উঠা সম্ভব নহে।
২. আমার দ্বারা আর উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করা হইল না।

ওঠা—ওঠা হচ্ছে চলিত শব্দ। চলিত বাক্যে ওঠা ব্যবহৃত হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. তোমার আর জাতে ওঠার দরকার নেই।
২. হিমালয়ের চূড়ায় ওঠা বেশ কষ্টকর হবে

উঠে—উঠে হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। যার অর্থ—ওঠার পর।
দৃষ্টান্ত :
১. ঘুম থেকে উঠে আমি দৌড়াতে যাই।
২. গাছে উঠে তার ভয়ভয় করতে লাগল।

উঠে হচ্ছে চলিত অসমাপিকা ক্রিয়া।

ওঠে—ওঠে হচ্ছে সমাপিকা ক্রিয়া অর্থাৎ যে ক্রিয়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, বাক্যে আকাঙ্ক্ষার অভাব থাকে না।
দৃষ্টান্ত :
১. সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে
২. সে কখন ঘুম থেকে ওঠে তা আমি জানি না
ওঠে চলিত সমাপিকা ক্রিয়া।  

না/নি-এর ব্যবহার

লিখতে গিয়ে আমাদেরকে প্রায়ই নি, না শব্দ দুটি ব্যবহার করতে হয়। এগুলো একই অর্থ প্রকাশ করলেও প্রয়োগে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। চলুন এগুলোর প্রয়োগ জেনে নিই।

‘নি’ সবসময় শব্দের সাথে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. আমি সেখানে যাইনি।
২. রাতুল আমাকে কিছু বলেনি।

‘না’ শব্দের শেষে বসলে আলাদাভাবে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. সুদীপ্ত আজ বিদ্যালয়ে যাবে না।
২. আমি আজ অফিসে যাব না।

‘না’ শব্দের শুরুতে উপসর্গ হিসেবে বসলে একসাথে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. অমন নাহক কথা বলবে না।
২. নাবালকের কথায় কান দিও না।

সমাসবদ্ধ পদে ‘না’ থাকলে তা হাইফেনযোগে লেখা যায়।
দৃষ্টান্ত :
১. না-বলা কথা।
২. না-গোনা পাখি।

বিদেশি শব্দের বানান

বিদেশি শব্দে মূর্ধন্য ণ, মূর্ধন্য ষ, দীর্ঘ ঈ, দীর্ঘ ঈ-কার, দীর্ঘ ঊ, দীর্ঘ ঊ-কার, ঋ, ঋ-কার, ব-ফলা ব্যবহৃত হবে না।
দৃষ্টান্ত :
আরবি, ইংরেজি, দোকানি, কাহিনি, ফারসি, ফরাসি, ব্রিটিশ, স্টেশন, রেজিস্ট্রেশন, স্টোর, ইমান, ইগল,
ফার্নিচার, হর্ন, কর্নার, ইন্টার্ন, ইস্টার্ন, মাস্টার, হজ, জিন, শিকারি, শাদি,দুরবিন, গরিব, মিস্ত্রি, জিনিস, আলহাজ, জি, পোস্ট, আইনি, বেআইনি, ফরিয়াদি, আসামি, আমদানি।

বিদেশি শব্দে ক্ষেত্র অনুযায়ী অ্যা বা ্যা ব্যবহার করতে হবে। যেমন—অ্যাকাউন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্ড, অ্যাডমিন, ম্যানেজার, অ্যাসিড, ক্যাশ, ব্যাংক, ট্যাংক, অ্যাসোসিয়েশন, অ্যালামনাই, ফ্ল্যাট, ফ্ল্যাশ।

ইংরেজি শব্দকে বাংলায় লিখতে হলে যথাসম্ভব উচ্চারণ অনুযায়ী লিখতে হবে।

সুখ ও শান্তি : মিল ও অমিলের তুলনামূলক পর্যালোচনা

সুখশান্তি : এই দুটি অনেকটা কাছাকাছি হলেও একটিকে অন্যটির জায়গায় বসানো চলে না। সুখ ও শান্তির মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।
যদিও সুখ ও শান্তি একে অপরের সঙ্গে জড়িত  তবুও উভয়ই বাহ্যিক ঘটনা থেকে স্বতন্ত্র।

সুখ

সুখ শব্দটি কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেমন— জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকা, ভালোলাগা ও খারাপ না লাগা। সুখের কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই, কারণ এটি জীবনের মানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অনেক মানুষ সুখকে একটি অস্থায়ী সন্তুষ্টি হিসেবে বিবেচনা করে। সুখ দীর্ঘ সময় ধরে ক্রোধ ও উত্তেজনা হিসেবে স্থান ধরে রাখতে পারে না এবং এ কারণেই এটি অস্থায়ী হিসেবে বিবেচিত হয়। আপনার জীবনে যখন আকর্ষণীয় কিছু ঘটে তখনই আপনি সুখ অনুভব করতে পারেন।

সুখ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যেমন—অর্জন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পুরস্কার প্রভৃতি। একইভাবে, বেশ কয়েকটি বাহ্যিক ঘটনা দ্বারা সুখকে নষ্ট করা যেতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের কাছে সর্বোত্তম জিনিস নেই, তবে তারা যা কিছু আছে তার সেরা ব্যবহার করেন।

এটি (সুখ) চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, কারণ জীবনের বেশিরভাগ ঘটনা স্বল্প সময়ের জন্য আমাদেরকে আনন্দিত করে। যেমন— পদোন্নতি হওয়া, বিয়ে করা, বিশাল আয় করা প্রভৃতি জিনিসগুলো স্বল্পমেয়াদি সুখ দেয় যা সময়ের সাথে ম্লান হয়ে যেতে পারে। আপনার যখন সমস্ত চাহিদা সন্তুষ্ট হয়, আপনি তখন নিখুঁত সুখ পাবেন।

সুখ আপনাকে অভ্যন্তরীণ প্রশান্তি নাও দিতে পারে। আপনি যদি অভ্যন্তরীণ শান্তি খুঁজে পান তবে আপনার সুখ স্থায়ী হতে পারে।

শান্তি

শান্তি হলো আপনার ভেতরে থাকা নিস্তব্ধতা যা সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে অর্জন করা যায়। জীবনে আপনার ইচ্ছে ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করে আপনি সুখী হতে পারেন। তবে আপনি জীবনের সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে জীবনে শান্তি অর্জন করতে পারেন।

একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, শান্তি জীবনকে নিস্তেজ করে তোলে। সত্যটি হলো—শান্তি নিস্তেজতার অবস্থা নয়, শান্ত হওয়া। এটি আপনাকে আরও সুখী, সচেতন ও জীবিত করে তোলে। অন্তর্নিহিত শান্তি আবিষ্কার করা লোকেরা তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ প্রশান্তিযুক্ত লোকেরা প্রতিটি পরিস্থিতিকে উড়িয়ে দেয় না—আবার বিশ্লেষণও করে না। শান্তি নষ্ট করে এমন অনেক কিছুই রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—অতীতের ঘটনাগুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা, লোকেরা কে কী বলেছিল বা কী করেছে ইত্যাদি অর্থহীন চিন্তাভাবনা হওয়ায় এগুলো সময় ও শক্তি অপচয় করে।

মানুষের মন অনেক কিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘরের মতো। আপনি যদি ঘরটি পছন্দ না করেন, আপনি যা করতে পারেন তা হলো আপনার ইচ্ছেমতো জিনিসগুলো সাজানো। একইভাবে, যদি আপনার মন চিন্তা, উদ্‌বেগ, ভয় ও অন্তহীন চিন্তাভাবনায় আবদ্ধ হয়। উত্তেজনা ও মানসিক চাপের এই অবস্থাটি জীবনকে নেতিবাচক উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে।

সুখ ও শান্তির তুলনামূলক মিল-অমিল

সুখ ও শান্তি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং একে অপরের থেকে পৃথক করা কঠিন। তবে, এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে যখন আপনি সুখ ও শান্তি আলাদা করে বুঝতে পারবেন। সুখ ও শান্তির অনুভূতি আলাদা। সুখ ও শান্তির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো—সুখ শর্তাধীন, যদিও শান্তি নিঃশর্ত।

আপনি যখন শান্তি ও সুখের তুলনা করেন, আপনি যা দেখতে পাবেন তা হলো—শান্তি হলো সুখের চেয়ে শক্তিশালী অনুভূতি। সুখ একটি অনুভূতি যা সন্তুষ্টি থেকে পরিতৃপ্তিতে আনন্দিত করতে পারে। শান্তি চূড়ান্ত অনুভূতি যা সংজ্ঞায়িত করা যায় না।

হল নাকি হলো : কোনটি সঠিক বানান এবং কেন?

হল নাকি হলো, কোনটি শুদ্ধ তা নিয়ে অনেকের কাছে যথেষ্ট দ্বিধা আছে। যদিও অনেকেই বহুদিন ধরে হল লিখে আসছি। দুটিকে অনেকটা একইরকম মনে হলেও প্রয়োগে কিছুটা ভিন্নতা আছে।

যদিও একসময় নিম্নোক্ত দুটি অর্থেই হল বানানটি ব্যবহৃত হতো। তবে উচ্চারণ ও অর্থের পার্থক্য থাকায় বাংলা একাডেমি দুটির বানানকে পৃথক করেছে।
আসুন জেনে নিই এদের প্রয়োগ।

হল—হল শব্দটির উচ্চারণ হচ্ছে ‘হল্’।
হল শব্দের অর্থ হচ্ছে—লাঙল, বৈঠক বা সভার জন্য নির্মিত বড়ো ঘর, আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, সোনার প্রলেপ, সমাধান।
উল্লিখিত অর্থের সমার্থক শব্দ হিসেবে হল শব্দটি ব্যবহৃত হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ।
২. হলঘরে সভা আহ্বান করা হয়েছে।
৩. সিনেমা হলে নতুন সিনেমা চলছে।
৪. পরীক্ষার হলে কেউ কাউকে সাহায্য করে না।

হলো—হলো শব্দটির উচ্চারণ হচ্ছে ‘হোলো’।
হলো শব্দের অর্থ—হয়েছে এমন।
হয়েছে এমন অর্থে হলো শব্দটি ব্যবহৃত হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. স্বপ্ন আমার সত্যি হলো।
২. অবশেষে কাজটা শেষ হলো।
৩. দেশে কী যে শুরু হলো!
৪. রোহিঙ্গাদের সকল সাহায্য বন্ধ হলো।

সুপ্রিয় পাঠক, হল নাকি হলো লিখবেন সেটা বুঝতে আর সমস্যা নেই আশা করি।