বাঙলা নাকি বাংলা : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

বাঙলা নাকি বাংলা, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে অনেকেই প্রশ্ন করেন। অনেকের ধারণা বাঙলা বানানটি ভুল, আবার অনেকের মতে বাঙলা অপ্রচলিত হলেও শুদ্ধ বানান। আর যদি বাঙলা ভুল বানান হয়েও থাকে তাহলে তার কারণ কী। বানানটি ভুল না শুদ্ধ সেটা বিচার করার আগে শব্দটির উৎপত্তি জানা দরকার। চলুন বাঙলা নাকি বাংলা, কোনটি ভুল বা কোনটি শুদ্ধ তার পর্যালোচনা করা যাক।

শব্দটির মূল এসেছে সংস্কৃত বঙ্গ থেকে। প্রাচীনকালে বঙ্গ বলতে কেবল পূর্ববঙ্গকে বোঝাত—এখনকার মতো সমগ্র বাংলাকে বোঝাত না। বঙ্গ শব্দের সঙ্গে অধিবাসী অর্থে আল প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বঙ্গ+আল = বঙ্গাল শব্দটি তখন পূর্ববঙ্গের অধিবাসীদের বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।

পশ্চিমবঙ্গকে তখন ভিন্ন নামে ডাকা হতো। পশ্চিমবঙ্গে ঙ+গ = ঙ্গ যুক্তবর্ণের গ-কে অনেক জায়গায় উচ্চারণ করা হয় না; ফলে বঙ্গাল বানানটি হয়ে গেল বঙাল, যার প্রচলিত উচ্চারণ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বাঙাল

এর অনেক পরে বাংলা তুর্কিদের দ্বারা বিজিত হয়। তুর্কিরা বাংলার শাসনকার্যে ফারসি ভাষা ব্যবহার করত। ফারসিতে বঙ্গাল শব্দটি বঙ্গালহ বা বঙ্গালা রূপ ধারণ করে। বাঙালি জনসাধারণের মধ্যে তুর্কিদের দেওয়া এই নাম স্বীকৃত হলো। ধীরে ধীরে দেশবাসীর মুখে তার উচ্চারণ হয়ে ওঠে বাঙ্গালা

বাঙ্গালাকে সাধু শব্দ বলা যেতে পারে। মৌখিক ভাষায় আদ্যাক্ষরে বল বা ঝোঁকের ফলে দ্বিতীয় অক্ষর দুর্বল হয়ে আ-কার হারাল। ফলে বানান গিয়ে দাঁড়ায়—বাঙ্গলা বা বাঙ্গ্‌লা। পশ্চিমবঙ্গে ঙ্গ যুক্তবর্ণের লোপ পাওয়ায় বাঙ্‌লা রূপের উদ্ভব। ঙ্ এবং ং-এর উচ্চারণে পার্থক্য না থাকায় বাংলা লেখা হয়।

অনুস্বার (ং) হচ্ছে ঙ বর্ণের হস্‌চিহ্নযুক্ত রূপ। বাংলা বানানটিতেই শব্দটির যথাযথ উচ্চারণ প্রকাশ পায়। বর্তমানে ঙ বর্ণের সঙ্গে হস্‌চিহ্ন যুক্ত করার পরিবর্তেবেশি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বর্তমানে অধিকাংশ বানানে সেটা দেখা যায়।

বাঙাল ও বাঙালি শব্দের বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্যে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একসময় বাঙলা বা বাঙ্‌লা লেখার কথা বলেছিলেন, এবং তা কোথাও কোথাও ব্যবহৃত হতো।

আবার অনেকে বলেন যে, বাংলা বানানে অনুস্বার তাহলে বাঙালি বানানে ঙ কেন। অনুস্বারের সঙ্গে কার বা স্বর যুক্ত হলে পরিবর্তিত হয়ে ঙ রূপ লাভ করে।

ব্যাকরণ | শিক্ষা

‘কর্’ ধাতুর রূপ

কর্ ধাতুও বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি ধাতু। আমরা অনেকেই কর্ ধাতুর ক্রিয়াপদ লিখতে গিয়ে ভুল করে থাকি। চলুন জেনে নিই কর্ ধাতুর চলিত রূপগুলো।

ক. ব্যক্তি নিজে কাজ করলে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
করতাম, করেছিলাম, করছিলাম, করলাম, করেছি, করছি, করি, করব, করতে, করেছিলে, করছিলে, করলে, করেছ, করছ, করো, করবে, কোরো, করতি (স), করেছিলি, করছিলি, করলি, করেছিস, করছিস, করিস, করবি, কর, করত, করেছিল, করছিল, করল, করেছে, করছে, করে, করবে, করুক, করতেন, করেছিলেন, করছিলেন, করলেন, করেছেন, করছেন, করেন, করবেন, করুন, করে।
প্রয়োগ :
১. আমি একসময় খুব খেলাধুলো করতাম।
২. আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম।
৩. আমি তখন কাজ করছিলাম।
৪. আমি মাত্র কাজটা শেষ করলাম।
৫. আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।
৬. আমি এখন পড়াশোনা করছি।
৭. আমি এখন চাকরি করি।
৮. ঠিক আছে, আমি তোমার কাজটা করব।
৯. আমাকে যদি একটু সাহায্য করতে তাহলে ভালো হতো।
১০. তুমিই তো আমার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলে।
১১. রাত ১১টা পর্যন্ত তুমি বাজারে কী করছিলে?
১২. তুমি কেন এমন কাজ করলে!
১৩. দুপুরের খাওয়া শেষ করেছ?
১৪. তুমি এখন কী করছ?
১৫. আমি চাই কাজটা তুমিই করো।
১৬. তুমি এমন করবে সেটা আমি ভাবতেও পারিনি।
১৭. তিনমাসের মধ্যে কাজটি শেষ কোরো।
১৮. আমাকে অন্তত একবার স্মরণ করতি (স)।
১৯. তুই তাকে কেন কল করেছিলি?
২০. এতক্ষণ বাইরে কী করছিলি?
২১. তুই এমন কাজ কীভাবে করলি!
২২. আমার কাজটা শেষ করেছিস?
২৩. তুই কি এখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করছিস?
২৪. আমাকে এই কাজে সহায়তা করিস।
২৫. তুই এত খারাপ কাজ করবি সেটা আমার ধারণার বাইরে ছিল।
২৬. এখনই খাওয়া শেষ কর।
২৭. তুহিন আগে রেলওয়েতে চাকরি করত।
২৮. নাজিম আমাকে অপমানিত করেছিল।
২৯. সে তখনও আমার সঙ্গে তর্ক করছিল।
৩০. সে মাত্র পড়া শুরু করল ।
৩১. টিটু সরকারি চাকরিতে আবেদন করেছে।
৩২. সে রাগে গজগজ করছে।
৩৩. জলিল খুব ভালো কাজ করে।
৩৪. তুমি কবে ভালোভাবে কাজ করবে?
৩৫. সে তার মতো কাজ করুক।
৩৬. আমার নানা আমাকে খুব স্নেহ করতেন।
৩৭. এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যই রাস্তাটা মেরামত করতে টাকা বরাদ্দ করেছিলেন।
৩৮. তিনি আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করলেন।
৩৯. আপনি নাশতা করেছেন?
৪০. তিনি এখন কাজ করছেন।
৪১. আপনি দ্রুত কাজটা শেষ করেন/করুন।
৪২. বাড়িতে গিয়ে আমাকে কল করবেন।
৪৩. সে এখন কেরানির চাকরি করে।

খ. ব্যক্তি অন্যের দ্বারা কাজ করালে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
করাতাম, করিয়েছিলাম, করাচ্ছিলাম, করালাম, করিয়েছি, করাচ্ছি, করাই, করাব, করাতে, করিয়েছিলে, করাচ্ছিলে, করালে, করিয়েছ, করাচ্ছ, করাও, করাবে, কোরিয়ো, করাতি (স), করিয়েছিলি, করাচ্ছিলি, করালি, করিয়েছিস, করাচ্ছিস, করাস, করাবি, করা, করাতো, করিয়েছিল, করাচ্ছিল, করালো, করিয়েছে, করাচ্ছে, করায়, করাবে, করাক, করাতেন, করিয়েছিলেন, করাচ্ছিলেন, করালেন, করিয়েছেন, করাচ্ছেন, করাবেন, করান, করিয়ে।
প্রয়োগ :
১. আগে জানলে তোমাকে দিয়েই কাজটা করাতাম।
২. আমি সুব্রতকে দিয়ে আমার ঘরের রং করিয়েছিলাম।
৩. তোমাকে অপেক্ষা করাচ্ছিলাম কারণ আমি তখন খুব ব্যস্ত ছিলাম।
৪. শুধু শুধু তোমাকে কষ্ট করালাম।
৫. তমা কনস্ট্রাকশনকে দিয়ে আমার নতুন বাড়ি করিয়েছি।
৬. আমি খুব শীঘ্রই কাজটা করাচ্ছি।
৭. আমি এখন তাকে দিয়ে আমার বাড়ির কাজ করাই না।
৮. অনেকদিন ধরে ভাবছি যে রাস্তাটা পাকা করাব।
৯. তোমার ভাইকে দিয়েই তো কাজটা করাতে পারতে।
১০. তুমি রফিককে দিয়ে কাজটা করিয়েছিলে?
১১. তাকে অযথা কেন দেরি করাচ্ছিলে?
১২. তুমি কেন তাকে দিয়ে এই অপরাধ করালে?
১৩. তুমি নাকি তাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করিয়েছ?
১৪. আমাকে শুধু শুধু অপেক্ষা করাচ্ছ কেন?
১৫. আমি বলছি না তুমি আমাকে দিয়ে কাজ করাও।
১৬. তুমি আমাকে আর কত দেরি করাবে?
১৭. তুমি জিসানকে দিয়ে কাজটা কোরিয়ো।
১৮. তাকে দিয়ে আমাকে একটিবার কল করাতি (স)।
১৯. দাসীকে দিয়ে ঘরটা পরিষ্কার করিয়েছিলি?
২০. ওকে দিয়ে কেন আমাকে হেনস্তা করাচ্ছিলি?
২১. আমার বিরুদ্ধে এমন নালিশ কীভাবে করালি?
২২. তোর বউয়ের অস্ত্রোপচার করিয়েছিস?
২৩. আমাকে কেন দেরি করাচ্ছিস?
২৪. কাজ যেহেতু করাবি সেহেতু আমার ভাইকে দিয়েই করাস।
২৫. এসব কাজ করা সহজ নয়।
২৬. সে আমাকে দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজ করাতো।
২৭. সে-ই এসব কাজ করিয়েছিল।
২৮. সে যখন কাজ করাচ্ছিল তখন আমি হঠাৎ হাজির হয়েছিলাম।
২৯. সে কেন আমাকে দিয়ে এমন কাজ করালো তা আমার আজও অজানা।
৩০. সে আমাকে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়েছে।
৩১. সে আমাকে দিয়ে প্রতিনিয়ত খারাপ কাজ করাচ্ছে।
৩২. সে যদি ফারুককে দিয়ে কাজ করায় তো করাক।
৩৩. সে আমাকে এতক্ষণ অপেক্ষা করাবে তা আমি বুঝতে পারিনি।
৩৪. মহারাজ গোপালকে দিয়ে যাবতীয় কঠিন কাজ করাতেন।
৩৫. সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করিয়েছিলেন।
৩৬. তিনি হেলালকে দিয়ে কাজটা করাচ্ছিলেন।
৩৭. বৈকুণ্ঠ শ্বশুরকে দিয়ে বিনোদের নামে মামলা করালেন।
৩৮. তিনি আমাকে দিয়ে এই কঠিন কাজটি করিয়েছেন।
৩৯. তাকে দিয়ে এত কষ্ট করাচ্ছেন কেন?
৪০. আপনি নেহালকে দিয়ে কাজটা করাবেন তো করান, আমার এতে কোনো আপত্তি নেই।
৪১. বাবা বেঁচে থাকতে সবকিছু ঠিকঠাক করিয়ে নাও।

‘দি’ ধাতুর রূপ

দি ধাতু বাংলায় বহুল ব্যবহৃত একটি ধাতু। আজকাল আমরা অনেকেই মুখের ভাষাকেই লেখার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমরা মৌখিক ভাষার সঙ্গে এত বেশি পরিচিত হয়ে গিয়েছি যে, আজকাল এগুলোকেই শুদ্ধ ও লেখার ভাষা মনে হয়।

আর এই কারণেই আমরা দি ধাতুর ভুল প্রয়োগ করছি প্রতিনিয়ত। চলুন জেনে নিই দি ধাতুর চলিত রূপগুলো।

ক. ব্যক্তি নিজে কাজ করলে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
দিতাম, দিয়েছিলাম, দিচ্ছিলাম, দিলাম, দিয়েছি, দিচ্ছি, দিই, দেবো, দিতে, দিয়েছিলে, দিচ্ছিলে, দিলে, দিয়েছ, দিচ্ছ, দাও, দিয়ো, দেবে, দিতি (স), দিয়েছিলি, দিচ্ছিলি,
দিলি, দিয়েছিস, দিচ্ছিস, দিস, দিবি, দে, দিত, দিয়েছিল, দিচ্ছিল, দিলো, দিয়েছে, দিচ্ছে, দেয়, দেবে, দিক,
দিতেন, দিয়েছিলেন, দিচ্ছিলেন, দিলেন, দিয়েছেন, দিচ্ছেন, দেন, দেবেন, দিন, দিয়ে।
প্রয়োগ :
১. আমি রোজই তাকে কল দিতাম।
২. আমি তাকে একটা ডায়ারি উপহার দিয়েছিলাম।
৩. আমি তাকে তাড়া দিচ্ছিলাম কারণ আমি তখন ব্যস্ত ছিলাম।
৪. আমার সবকিছু তোমাকে দিয়ে দিলাম।
৫. আমি বৃদ্ধটাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।
৬. আমরাই তাকে প্রথম এই সুযোগটি দিই।
৭. আমি এই অবস্থায় তোমাকে যেতে দেবো না।
৮. কষ্ট করে আসার কী দরকার ছিল, আমাকে একটা কল দিতে।
৯. যখন তুমি খুদে বার্তা দিয়েছিলে তখন আমি মুঠোফোনের পাশে ছিলাম না।
১০. বারবার কেন আমাকে ডাক দিচ্ছিলে?
১১. আমাকে আজও খবরটা দিয়েছ?
১২. দিচ্ছ ভীষণ যন্ত্রণা, বুঝতে কেন পারছ না ছাই মানুষ আমি যন্ত্র না।
১৩. আমাকে আরেকবার সুযোগ দাও।
১৪. হলুদ খামে হলেও পত্র দিয়ো।
১৫. আমাকে রশিদের বাড়ির ঠিকানাটা দেবে?
১৬. সে আমাকে খবর দিক আর না-ই দিক, আমি যাবই।
১৭. তিনি আমাকে খুব ভালো উপদেশ দিতেন।
১৮. তিনি আমাকে একটা টাকার খাম দিয়েছিলেন।
১৯. তিনি আমাকে বারবার কেন খবর দিচ্ছিলেন তা আমি বুঝছিলাম না।
২০. তিনি খুশি হয়ে আমাকে ৫০০০ টাকা উপহার দিলেন।
২১. বাবা আমাকে অনেককিছুই দিয়েছেন।
২২. তিনি আমাকে রোজ কল দিচ্ছেন।
২৩. আমাকে কিছু টাকা ধার দেন/দিন।
২৪. সে এলে আমাকে ডাক দেবেন।
২৫. তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।
২৬. আমি এখনই তার টাকা দিয়ে দিচ্ছি।
২৭. আমাকে কেন এই অপবাদ দিলে?
২৮. আমাকে একবার খবরটা দিতি (স)।
২৯. আমাকে তখন অযথা কেন ডাক দিয়েছিলি?
৩০. আমাকে কেন অনবরত ডাক দিচ্ছিলি?
৩১. আমাকে কতটুকু সম্মান দিয়েছিস?
৩২. আমাকে কেন দোষ দিচ্ছিস?
৩৩. পরীক্ষার খাতায় ঠিকমতো উত্তর দিস।
৩৪. ভোরবেলা আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দিবি।
৩৫. তোর মাকে তাড়াতাড়ি ডাক দে।
৩৬. সে আমাকে প্রায়ই পত্র দিত।
৩৭. সে আমাকে একটা দামি কলম দিয়েছিল।
৩৮. সে আমার কাজ করে দিচ্ছিল, তাই আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
৩৯. সে অবশেষে আমার চিঠির জবাব দিলো।
৪০. বিপিন তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে।
৪১. সে আমাকে যেতে দিচ্ছে না।
৪২. সে-ই আমাকে সব খবর দেয়।

খ. ব্যক্তি অন্যের দ্বারা কাজ করালে সাধারণত নিচের রূপগুলো বসে :
দেওয়াতাম, দিইয়েছিলাম, দেওয়াচ্ছিলাম, দেওয়ালাম, দিইয়েছি, দেওয়াচ্ছি, দেওয়াই, দেওয়াব, দেওয়াতে, দিইয়েছিলে, দেওয়াচ্ছিলে, দেওয়ালে, দিইয়েছ,
দেওয়াচ্ছ, দেওয়াও, দিইয়ো, দেওয়াবে, দেওয়াতি, দিইয়েছিলি, দেওয়াচ্ছিলি, দেওয়ালি, দিইয়েছিস, দেওয়াচ্ছিস, দেওয়াস, দেওয়াবি, দেওয়া, দেওয়াত, দিইয়েছিল, দেওয়াচ্ছিল, দেওয়ালো, দিইয়েছে, দেওয়াচ্ছে, দেওয়ায়, দেওয়াবে, দেওয়াক, দেওয়াতেন, দিইয়েছিলেন, দেওয়াচ্ছিলেন, দেওয়ালেন, দিইয়েছেন, দেওয়াচ্ছেন, দেওয়াবেন, দেওয়ান।
প্রয়োগ :
১. প্রয়োজন হলে আমি সিজানকে দিয়ে তোমাকে খবর দেওয়াতাম।
২. দারোয়ানের মাধ্যমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিইয়েছিলাম।
৩. আরে তুমি এসে পড়েছ! আমি তো বিপুলের মাধ্যমে তোমাকে খবর দেওয়াচ্ছিলাম।
৪. শিমুকে দিয়ে রশিদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ালাম।
৫. তারেককে দিয়ে তোমার বাড়িতে খবর দিইয়েছি।
৬. আমি এখনই তাকে খবর দেওয়াচ্ছি।
৭. তাহলে তোমাকে দিয়েই তোমার মাকে খবরটা দেওয়াব।
৮. তাকে দিয়ে আমাকে একটা কল দেওয়াতে।
৯. তুমিই তো নাহিদের মাধ্যমে আমাকে খবরটা দিইয়েছিলে।
১০. বারবার পুলিশ দিয়ে কেন আমাকে হুমকি দেওয়াচ্ছিলে?
১১. আমাকে কেন পিয়ন দিয়ে চিঠি দেওয়ালে, তুমি তো নিজে আসতে পারতে।
১২. শুনলাম তুমি নাকি জিসানকে ঘুস দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ দিইয়েছ!
১৩. কেন বারবার আমাকে হুমকি দেওয়াচ্ছ?
১৪. তুমি তাকে দিয়ে যতই পত্র দেওয়াও না কেন, কোনো লাভ হবে না।
১৫. রাতুলের মাধ্যমে আমার জিনিসটা বাড়িতে পৌঁছে দিইয়ো।
১৬. আমাকে দিয়ে আর কতবার পরীক্ষা দেওয়াবে?
১৭. তোর ভাইকে দিয়ে আমাকে অন্তত একবার ডাক দেওয়াতি।
১৮. তুই তো টুটুলের মাধ্যমে আমাকে খবরটা দিইয়েছিলি।
১৯. কেন অসীমকে দিয়ে আমাকে অনবরত কল দেওয়াচ্ছিলি?
২০. তুই কেন তাকে দিয়ে আমাকে হুমকি দেওয়ালি?
২১. তুই কেন তাকে দিয়ে খবর দিইয়েছিস, নিজে তো বলতে পারতিস।
২২. কুবুদ্ধি করে তাকে দিয়ে কেন আমাকে কষ্ট দেওয়াচ্ছিস?
২৩. তাকে দিয়ে আমাকে একটা কল দেওয়াস।
২৪. বাড়িতে গিয়ে তোর আম্মাকে দিয়ে আমাকে কল দেওয়াবি।
২৫. আমাকে অন্তত একবার তাকে দিয়ে চিঠি দেওয়া।
২৬. সে আমাকে গুন্ডা দিয়ে হুমকি দেওয়াত।
২৭. সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাকে চাকরিটা পাইয়ে দিইয়েছিল।
২৮. সে আমাকে অনবরত খবর দেওয়াচ্ছিল।
২৯. সে শেষ পর্যন্ত আমাকে নোটিশ দেওয়ালো।
৩০. সে পাপলুকে দিয়ে আমাকে খবর দিইয়েছে।
৩১. সে আমাকে অন্যের মাধ্যমে সুযোগ দেওয়াচ্ছে।
৩২. সে আজও আমাকে অন্যের মাধ্যমে খবর দেওয়ায়।
৩৩. আর কতবার আমাকে খবর দেওয়াবে?
৩৪. সে পারে তো আমাকে জেলে দেওয়াক।
৩৫. রাজা প্রহরীর মাধ্যমে দুস্থদেরকে খাবার দেওয়াতেন।
৩৬. রাজা পেয়াদা পাঠিয়ে গোপালকে খবর দিইয়েছিলেন।
৩৭. মুঠোফোনে না পেয়ে তিনি আমাকে লোক দিয়ে খবর দেওয়াচ্ছিলেন।
৩৮. বড়ো ভাই মাকে দিয়ে আমাকে বকা দেওয়ালেন।
৩৯. অফিসে না যাওয়ায় বড়োকর্তা আমাকে খবর দিইয়েছেন।
৪০. তাকে দিয়ে কেন আমাকে বারবার কল দেওয়াচ্ছেন?
৪১. তাকে বলে আমাকে একবার এই চলচ্চিত্রটিতে সুযোগ দেওয়াবেন?
৪২. রাজা প্রহরীকে দিয়ে গোপালকে বলে দেওয়ান যে, গোপালকে তাড়াতাড়ি প্রাসাদে হাজির হতে হবে।

দ্রষ্টব্য—ওপরের ধাতুরূপগুলো বাদে দি ধাতুর বাকি সব রূপই আঞ্চলিক ও সাধু।

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ?

ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি শুদ্ধ সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। বর্তমানে ফোন বা মুঠোফোন একটি বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। ছেলে-বুড়ো সবাই আজকাল এসব ব্যবহার করে অভ্যস্ত। অনেকের মুখেই শুনি ফোন দেওয়ার কথা। কিন্তু কারো সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া কি আসলেই শুদ্ধ?

ফোন দেওয়া মানে দাঁড়ায়—কেউ কাউকে একটা ফোন উপহার দিচ্ছে।  অবশ্য আমরা এটার অর্থের দিক বিবেচনা না করেই এটা ব্যবহার করে থাকি। আমরা মূলত যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া কথাটি ব্যবহার করি।

কিন্তু যোগাযোগ করা অর্থে ফোন দেওয়া বলা যুক্তিযুক্ত নয়, কারণ আমরা যোগাযোগ করি মাত্র; ফোনটা তাকে দিয়ে দিই না। এটার ইংরেজি হয়—give me a call/give me a ring; ভেবে দেখুন তো ইংরেজি বাক্যেও কিন্তু ফোন দেওয়ার কথা বোঝাচ্ছে না। ফোন করা, কল করা বা কল দেওয়া বোঝাচ্ছে।

তাছাড়া ইংরেজিকে বাংলাতে হুবহু বলা সম্ভবও নয়। অনেকে হয়তো বলবেন যে, কল করা, কল দেওয়া বা ফোন করা শব্দের মধ্যেও তো ইংরেজি শব্দ আছে। হ্যাঁ আছে, তবে এমন কিছু ইংরেজি শব্দ আছে যেগুলোর বাংলা করতে গেলে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়ে উঠবে না।

আর এই কারণেই আমরা এরকম ইংরেজি-বাংলা মিশ্রিত শব্দ ব্যবহার করতে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য। আপনি যদি ফোন করা, কল দেওয়া বা কল করার বাংলা করতে যান, তাহলে অনেকেই আপনার কথার প্রকৃত অর্থ বুঝবে না।

মুঠোফোনে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা অর্থে ফোন করা, কল করা বা কল দেওয়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে কেউ কাউকে ফোন, মোবাইল বা মুঠোফোন কিনে দিলে বা উপহার দিলে ফোন দেওয়া বলতে পারি; সেটা অন্য ব্যাপার।


সুপ্রিয় পাঠক, ফোন দেওয়া নাকি ফোন করা, কোনটি শুদ্ধ সেটা বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়।

‘ভিত্তিক’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

ভিত্তিক’ শব্দটি প্রায়ই ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে গণমাধ্যমে এটার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
তবে আমরা অনেকেই শব্দটির ভুল প্রয়োগ করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শব্দটি একসঙ্গে লিখতে হবে না আলাদাভাবে লিখতে হবে।

শেষে ‘ভিত্তিক’ যুক্ত আছে এমন শব্দ সাধারণত সমাসবদ্ধ শব্দ হয়ে থাকে। আর সমাসবদ্ধ শব্দ সাধারণত একসঙ্গে বসে। ‘ভিত্তিক’ শব্দটি সবসময় আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. আল-জাজিরা হচ্ছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম।
২. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্যে মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
৩. কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা-ই আজকের আধুনিক সভ্যতার শেকড়।
৪. প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ গড়তে ইন্টারনেটের দাম কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সুধীজনরা।
৫. যুক্তিভিত্তিক বক্তব্য আমি বরাবরই পছন্দ করি।
৬. অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে, চুক্তিভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র অর্থনীতির জন্যে ভালো নয়।
৭. ফেসবুকভিত্তিক ব্যাবসা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
৮. কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর।

শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি

শ্যাম রাখি না কুল রাখি একটি বহুল প্রচলিত বাগ্‌ধারা। চলুন জেনে নিই এর পেছনের ইতিহাস। শ্যাম হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম। রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়ের কাহিনি শোনেননি এমন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রেমের ইতিহাসে তাঁরা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা চিরদিন বেঁচে থাকার যোগ্য।

প্রথমদিকে কৃষ্ণ রাধার জন্যে কাতর থাকতেন। রাধার চিন্তায় হয়ে উঠতেন অধীর, ছন্নছাড়া। কিন্তু প্রথমে তিনি রাধার থেকে উপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই পাননি। কিছুদিন পরেই ঘটনা পালটে যায়। যে রাধা তাঁকে উপেক্ষা করেছিলেন সেই রাধা-ই তাঁর জন্যে অধীর হওয়া শুরু করেছেন।

কিন্তু উপেক্ষা সহ্য করতে করতে কৃষ্ণের তৃষ্ণার মাত্রা কিছুটা কমে যায়। কিন্তু তখন অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, রাধা কৃষ্ণকে ছাড়া বাঁচবেনই না।
কিন্তু রাধা ও কৃষ্ণের সামাজিক যে মামি-ভাগ্নের সম্পর্ক, সেখানে মিলন হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।

রাধার ছিল কুল (জাত) যাওয়ার ভয়, কারণ সে ছিল অন্যের স্ত্রী। তিনি যদি কৃষ্ণকে পেতে চান তাহলে তাঁর জাত বা কুল যাবে। আবার কৃষ্ণকে তিনি হারাতে চান না, কারণ তখন কৃষ্ণকে ছাড়া তাঁর বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

রাধা না পারছিলেন কৃষ্ণের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে, কারণ কৃষ্ণ তাঁকে ঠিক আগের মতো ভালোবাসেন না। আবার সেটা সম্ভব হলেও লোকলজ্জা, জাত যাওয়ার চিন্তা। তিনি কোনটাকে বেছে নেবেন! কারণ তাঁর কাছে কোনোটাকেই ছেড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না।

এই দোটানা অবস্থা থেকেই শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটির উৎপত্তি। কেউ যখন দুটো বিকল্পের মধ্যে একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটাকে গ্রহণ করতে পারেন না তখন সাধারণত শ্যাম রাখি না কুল রাখি কথাটি ব্যবহার করা হয়।

সম্পন্ন কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে বসে?

সম্পন্ন শব্দটির ভুল ব্যবহার প্রতিনিয়তই আমাদের চোখে পড়ে।
মূলত শব্দটির অবস্থানগত কারণে অর্থবিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য একটি নিয়ম মনে রাখলে শব্দটির ভুল প্রয়োগ এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই ‘সম্পন্ন’ কখন, কোথায় ও কীভাবে লিখবেন।

ক.সম্পন্ন’ শব্দটি দিয়ে সম্পৎশালী, সমাপ্ত বা সম্পূর্ণ বোঝালে তা আলাদাভাবে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. জহুরুল সাহেবের কুলখানি সম্পন্ন হয়েছে।
২. এই কাজ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ৩০ দিন সময় লাগবে।
৩. সে একটা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে।

খ.সম্পন্ন’ শব্দটি দিয়ে আছে এমন বা কোনোকিছুতে পরিপূর্ণ বোঝালে তা আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. তিনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
২. ইউনুস সাহেব একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি।
৩. প্রাচীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারেন না।
৪. তোমার মতো বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের থেকে এমন কাজ আশা করিনি।
উল্লেখিত/উল্লিখিত

সম্পর্কিত একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

সম্পর্কিত শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
তবে শব্দটির ভুল প্রয়োগে বাক্যের অর্থবিভ্রান্তি ঘটতে পারে। এজন্যে শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ জানা প্রয়োজন।
চলুন জেনে নিই ‘সম্পর্কিত’ শব্দটি একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখতে হবে।

ক.সম্পর্কিত’ শব্দটি দিয়ে যে বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নির্দেশ করা হয় সেটা আগে থাকলে ‘সম্পর্কিত’ শব্দটি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১ ইতিহাস-সম্পর্কিত বই আমি খুব পছন্দ করি।
২. রাজনীতিসম্পর্কিত বিষয়ে আমি তোমার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই না।
৩. দুর্নীতিসম্পর্কিত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ছাড় দিতে নারাজ।
৪. আবহাওয়া-সম্পর্কিত নতুন কোনো তথ্য পেলে আমাকে জানাবে।

খ. ওপরের শর্ত পূরণ না হলে ‘সম্পর্কিত’ আলাদাভাবে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. মোট জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. হলি আর্টিজানে হামলা ও শোলাকিয়া ইদগাহে হামলা—একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
৩. আইনের প্রয়োগ ও অপরাধের হার সম্পূর্ণভাবে সম্পর্কিত।
৪. সম্পর্কিত নয় এমন দুটি বিষয়ের মাঝে তুলনা করা অনুচিত।

দ্রষ্টব্য—প্রথম নিয়মে একসঙ্গে লিখতে গিয়ে উচ্চারণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হাইফেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
হয় তো/হয়তো | স্বাস্থ্য

ভূতের মুখে রামনাম কথাটির উৎপত্তি

ভূতের মুখে রামনাম কথাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। সাধারণত অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য ঘটনা/ব্যাপার বোঝাতে আমরা ভূতের মুখে রামনাম কথাটি ব্যবহার করি। অবশ্য এই কথাটির পেছনে রয়েছে এক বিরাট পৌরাণিক কাহিনি।

বাংলায় দেবযোনি নামে একটা শব্দ আছে। যাদের জন্ম দেবতা থেকে কিন্তু ক্ষমতা ও অন্যান্য দিক দিয়ে দেবতার মতো নয়, তাদেরকে মূলত দেবযোনি নামে অভিহিত করা হয়। দেবযোনিরা দশ প্রকারের হতে পারে—অপ্সরা, পিশাচ, ভূত, গন্ধর্ব, বিদ্যাধর, কিন্নর, যক্ষ, রাক্ষস, গুহ্যক ও সিদ্ধ।

এই ভূতের চেহারা খুবই ভয়ংকর রকমের। যে-কোনো সাহসী মানুষকেও মুহূর্তেই ভীত করে দিতে সক্ষম এরা।
এরা দেখতে খুবই রোগাপটকা ধরনের। দেখলে মনে হয় যে গায়ে হাড় ছাড়া অন্যকিছু অবশিষ্ট নেই।

তাদের হাতে থাকে অস্বাভাবিক লম্বা নখ, বড়ো বড়ো রক্তাক্ত চোখ, লম্বা হাত-পা, বিশ্রী রকমের কণ্ঠস্বর, অনেক লম্বা ধরনের কান ও দাঁত। ঠোঁট দেখলে মনে হয় যে ঝুলে আছে। এদের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এরা উলঙ্গ থাকতে পছন্দ করে।

তবে মাঝে মাঝে এদেরকে অদ্ভুত কাপড় পরিহিত অবস্থায়ও দেখা যায়। পুরাণমতে এদের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। এই ভূতেরা দেবতা-অসুরদের সঙ্গেও যুদ্ধ করত। যুদ্ধে এদের প্রধান হাতিয়ার ছিল ত্রিশূল ও তির-ধনুক।

অনেক পুরাণে দেখা যায় যে, শিব বা রুদ্রই ছিল এদের সর্দার বা দলনেতা। আবার কোথাও কোথাও শিবের শিষ্য নন্দীবীরভদ্রকে এদের সর্দার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এছাড়া অনেক পুরাণে বিনায়কস্কন্দকে এদের সর্দার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কথিত আছে যে, অন্ধক নামের এক দৈত্য একদিন বিনায়ককে আক্রমণ করেন। কিন্তু তার কাছে হেরে যান ভূতের সর্দার বিনায়ক। প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বিনায়ক তাকে আক্রমণ করার ফন্দি আঁটতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি নন্দীর সঙ্গে পরামর্শ করে একত্রে কাজ করতে শুরু করেন।

একসময় তারা শক্তি সঞ্চার করে অন্ধককে আক্রমণ করেন। অন্ধক ছিলেন একা। অসহায় হয়ে তিনি শিবের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। একদিন শিব অন্ধককে কয়েকজন ভূত উপহার দেন। শেষে অন্ধকও শিবের শিষ্য হিসেবে স্থান লাভ করেন। এরপর তার নাম হয় ভৃঙ্গী।

তবে আরেক পুরাণ অনুযায়ী অন্ধক শিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধে অন্ধক হেরে যান এবং শিবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, তখন তার নাম হয় ভৃঙ্গী।

যদিও এই ভূতেরা শিব বা শিবের শিষ্য নন্দী ও ভৃঙ্গীর অনুগামী, কিন্তু এরা রামের নাম শুনতে পারে না। কথিত আছে যে, রামের নাম শোনামাত্রই ভূতেরা পালিয়ে যায়। যারা রামের নাম শুনতেই পারে না, তারা রামের নাম জপবে কী করে! এটা একেবারেই অসম্ভব ঘটনা।
নিষেধ/নিষিদ্ধ | শিক্ষা

উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত : কোনটি সঠিক ও কেন?

উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান। উল্লেখিত শব্দটির সঙ্গে আমরা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। সাধারণত উল্লেখ করা হয়েছে এমন অর্থে আমরা এই শব্দটি ব্যবহার করি। তবে ব্যাকরণগত দিক দিয়ে উল্লেখিত অশুদ্ধ শব্দ।

সন্ধিতে উদ্+লিখিত = উল্লিখিত হয়, আবার শব্দটি প্রত্যয়যোগেও গঠিত। উদ্+ √লিখ্+ত = উল্লিখিত।
উদ্ হচ্ছে উৎ শব্দের আরেক রূপ। যার অর্থ—ওপরে বা আগে। ‘লিখিত’ অর্থ যা লেখা হয়েছে। ‘উল্লিখিত’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—ওপরে লিখিত বা পূর্বে লিখিত।

একই অর্থে আমরা উপরোল্লিখিত বা উপরোল্লেখিত- লিখে থাকি—যেটা ভুল, কেননা ‘উল্লিখিত’ শব্দের মধ্যেই ওপর/উপর শব্দের অর্থ উপস্থিত। আবার নতুন করে তার আগে উপর শব্দটি যুক্ত করা বাহুল্য। আবার উল্লেখিতউল্লিখিত—এই দুটি শব্দের মধ্যে অর্থের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

আমরা অনেকেই উল্লেখ করা হয়েছে এমন অর্থে উল্লেখিত লিখে থাকি। তবে ব্যাকরণের নিয়ম মেনে উল্লেখ থেকে উল্লেখিত হওয়া সম্ভব নয়।
দৃষ্টান্ত :
১. উল্লিখিত বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
২. উল্লিখিত নিয়মে পরের অঙ্কগুলো সমাধান করো।

সুপ্রিয় পাঠক, উল্লেখিত নাকি উল্লিখিত, কোনটি সঠিক বানান সেটা বুঝতে পেরেছেন আশা করি।