নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ : কোনটি সঠিক বানান?

নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান।
লেখার সময় সংশয়ের মাত্রা আরও বাড়ে। প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে এগুলোর ভুল ব্যবহার আমাদেরকে আরও সংশয়ে ফেলে দেয়, বিশেষ করে সংবাদপত্রে ভুল প্রয়োগ। প্রথমে জানা জরুরি যে, দুটিই সঠিক নাকি একটি ভুল। চলুন জেনে নিই দুটিই সঠিক নাকি একটি সঠিক।

নিষিদ্ধ—‘নিষিদ্ধ’ শব্দটি বিশেষণ। নিষিদ্ধ অর্থ—বারণ করা হয়েছে এমন। বাক্যে বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ‘নিষিদ্ধ লিখতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের কৌতূহল বরাবরই বেশি।
২. নিষিদ্ধ পল্লিতে রাতে মানুষের অবাধ বিচরণ থাকে।
৩. তিব্বত একটি নিষিদ্ধ দেশ।
৪. টিএসসিতে ধূমপান নিষিদ্ধ।

নিষেধ—‘নিষেধ’ শব্দটি বিশেষ্য। নিষেধ মানে বারণ।
বাক্যে বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ‘নিষেধ ’লিখতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. সে আমার নিষেধ শোনেনি।
২. বিধিনিষেধের কারণে চাল আমদানি বন্ধ আছে।
৩. এখানে আবর্জনা রাখা নিষেধ।
৪. ওকে বাইরে যেতে নিষেধ করো।

এমন কিছু বাক্য আছে যেখানে নিষিদ্ধ বসবে না নিষেধ বসবে সেটা বোঝা খুবই সূক্ষ্ম। এই ধরনের বাক্যে আগে ক্রিয়াপদ থাকলে তারপরে সাধারণত নিষেধ বসে। নিষিদ্ধ ও নিষেধ উভয়ই তৎসম শব্দ এবং আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী দুটোই ব্যবহার করতে পারবেন, কোনো সমস্যা নেই

সুপ্রিয় পাঠক, নিষিদ্ধ নাকি নিষেধ, কোনটি সঠিক বানান বা কোনটি লিখবেন সেটা বুঝতে পেরেছেন আশা করি।

‘জাতীয়’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে বসে?

আমরা অধিকাংশ বাঙালিই ‘জাতীয়’ শব্দটির প্রয়োগে ভুল করি। অবশ্য একটি সহজ নিয়ম মনে রাখলেই এই ভুল এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নিই ‘জাতীয়’ কখন একসঙ্গে, কখন আলাদাভাবে লিখতে হবে।

ক.জাতীয়’ শব্দটি জাতিসম্পর্কিত বা সমগ্র জাতির ইত্যাদি বোঝালে তা আলাদাভাবে বসবে।
দৃষ্টান্ত :
১. কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল।
২. জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দল-মত ভুলে কাজ করা উচিত।
৩. জাতীয় চার নেতাকে সবাই আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
৪. ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস।

খ.জাতীয়’ শব্দটি রকম, ধরন, প্রকার বা শ্রেণিভুক্ত অর্থে ব্যবহৃত হলে সেটা আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসবে।
দৃষ্টান্ত :
১. কেরোসিন হচ্ছে পেট্রোলিয়ামজাতীয় পদার্থ। 
২. কফি এক প্রকার চা-জাতীয় পানীয়।
৩. একজাতীয় মানুষ আছে যারা অন্যের দুঃখে আনন্দ পায়।
৪. টিকটিকি হচ্ছে গিরগিটিজাতীয় সরীসৃপ প্রাণী।

অত্র-এর প্রচলিত ভুল ব্যবহার | বানানবিদ

প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

আমরা অনেকেই প্রেক্ষিত/পরিপ্রেক্ষিত শব্দ দুটিকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শব্দ দুটির অর্থে পার্থক্য রয়েছে।

‘প্রেক্ষিত’ শব্দটি প্রেক্ষণ শব্দের বিশেষণ। প্রেক্ষণ মানে দর্শন বা দেখা। প্রেক্ষিত মানে দেখা হয়েছে এমন।
প্রেক্ষিত শব্দের সঙ্গে ‘পরি উপসর্গ যুক্ত হয়ে পরিপ্রেক্ষিত শব্দটি গঠিত হয়েছে।

‘পরি’ উপসর্গের অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে, চতুর্দিক।
পরিপ্রেক্ষিত শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—পটভূমি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সবকিছু দেখেশুনে তার ওপর ভিত্তি স্থাপন করা। কোনোকিছুকে ভিত্তি করে নতুন মন্তব্য করতে সাধারণত পরিপ্রেক্ষিত শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. প্রেক্ষিত বিষয়ে তোমার মন্তব্য কী?
২. করোনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

অত্র-এর প্রচলিত ভুল ব্যবহার

অত্র শব্দটির সঙ্গে আমরা ছোটোবেলা থেকেই পরিচিত। যেদিন থেকে আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র লেখা শুরু করেছি, সেদিন থেকেই বোধ হয় আমাদের ‘অত্র ’লেখার হাতেখড়ি।

আবেদনপত্র লিখেছেন কিন্তু ‘অত্র’ শব্দটি লেখেননি এমন মানুষ খুব কমই আছেন।
এমনকি বক্তৃতা বা মৌখিক ঘোষণায় প্রায়ই ‘অত্র’ শব্দটি শোনা যায়। আমরা সাধারণত ‘এই’ অর্থে ‘অত্র‘ শব্দটি ব্যবহার করি।

কিন্তু ‘অত্র ’শব্দের অর্থ ‘এই’ নয়। ‘অত্র’ শব্দের অর্থ—এইখানে। এই ও এইখানের মাঝে যোজন যোজন পার্থক্য রয়েছে।
এই’ মানে যেটা বা যার সম্পর্কে বলা হয়। ‘এইখানে’ মানে এই স্থানে বা এই জায়গায়।

আমরা লিখি অত্র বিদ্যালয়, অত্র অঞ্চল, অত্র প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে লেখা উচিত—এই বিদ্যালয়, এই অঞ্চল, এই প্রতিষ্ঠান।
এই’ অর্থে ‘অত্র’ শব্দটির ব্যবহার অসংগত।

দৃষ্টান্ত :
১. রাশেদ চৌধুরী এই (অত্র) অঞ্চলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
২. এই (অত্র) অফিসের ব্যবস্থাপক সদরুল হাসান।

আসলে/এলে-এর ব্যবহার

‘আসলে’ একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। আমরা হরহামেশা ‘আসলে’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। শব্দটির উচ্চারণ ‘আশ্‌লে’ হলে আমরা বুঝতে পারি যে, ‘আসলে’ শব্দটি দিয়ে এলে বা আগমন করলে বোঝানো হচ্ছে।
আবার উচ্চারণ ‘আশোলে’ হলে আমরা বুঝতে পারি যে, প্রকৃতপক্ষে বা বস্তুত বোঝানো হচ্ছে।

বানান একই, কিন্তু উচ্চারণ ও অর্থ উভয়ই ভিন্ন। মাঝে মাঝে বাক্যে ‘আসলে’ শব্দটি দেখে রীতিমতো থমকে যাই যে, এটা দিয়ে কোন অর্থ প্রকাশ করা হচ্ছে।

‘সে আসলে ভালো হবে’—এই বাক্যটি দিয়ে দুটি অর্থই প্রকাশ পায়।
একটি অর্থ হচ্ছে, সে যদি আগমন করে তাহলে ভালো হবে। আরেকটি অর্থ হতে পারে যে, সে প্রকৃতপক্ষে ভালো হবে। এখন আপনি কোনটি বুঝবেন?

আগমন করলে অর্থে ‘আসলে’ শব্দটি আঞ্চলিক। আগমন করলে অর্থে ‘আসলে’ না লিখে ‘এলে’ লেখাই যুক্তিযুক্ত, কেননা এতে বাক্যের অর্থ সহজবোধ্য হয়।
আবার ক্রিয়াপদের রূপ হিসেবে ‘এলে’ শুদ্ধ ও প্রমিত।

অর্থবিভ্রান্তি দূর করতে শুধু বস্তুত বা প্রকৃতপক্ষে অর্থে ‘আসলে’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত, আগমন করলে অর্থে ‘এলে’ ব্যবহার করা সংগত।
দৃষ্টান্ত :
উচিত—তুমি এলে মজা হবে।
অনুচিততুমি আসলে মজা হবে

‘চলাকালীন সময়ে’ ভুল না শুদ্ধ?

চলাকালীন সময়ে শব্দ দুটি প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে।
এই শব্দ দুটির সঙ্গে আমরা রীতিমতো অভ্যস্তও বটে।
অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, চলাকালীন শব্দটি লেখার সঙ্গে সঙ্গেই সময়ে শব্দটি আমাদের কলমের ডগায় চলে আসে।

কাল হচ্ছে বিশেষ্য, যার অর্থ—সময়। কালীন হচ্ছে কাল শব্দের বিশেষণ পদ, এর অর্থ—সময়ে। চলাকালীন শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—চলার সময়ে। চলাকালীন সময়ে মানে ‘চলার সময়ে সময়ে’। চলাকালীন শব্দের মধ্যেই সময়ে শব্দটি অন্তর্ভুক্ত আছে। চলাকালীন শব্দের পরে সময়ে শব্দটি নিতান্তই বাহুল্য ও নিরর্থক।

বাক্য গঠনের সময় বাহুল্য বর্জন করা সংগত। মোট কথা, কালীন শব্দের পরে সময়ে শব্দটি লেখা অনুচিত। কালীন অথবা সময়ে—যে-কোনো একটি লিখলেই চলে।
দৃষ্টান্ত :
১. বিদ্যালয় চলাকালীন/চলার সময়ে সকল ছাত্রছাত্রীকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
    বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সকল ছাত্রছাত্রীকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক

২.করোনাকালীন/করোনার সময়ে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয়।
   করোনাকালীন সময়ে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয়

৩. ঢাকায় থাকাকালীন/থাকার সময়ে রোজ ফুলার রোডে ঘুরতে যেতাম।
    ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে রোজ ফুলার রোডে ঘুরতে যেতাম

সমসাময়িক নাকি সামসময়িক : কোনটি শুদ্ধ ও কেন?

সমসাময়িক নাকি সামসময়িক, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সঠিক বানান সেটা নিয়ে আমরা অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছি তার কারণ হচ্ছে সামসময়িক বানানটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষ এই বানানটির সঙ্গে অপরিচিত। অধিকাংশ বাঙালিই সমসাময়িক শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। বহুদিন ধরেই সমসাময়িক বানানটি শুদ্ধ হিসেবে প্রচলিত ছিল কিন্তু বাংলা একাডেমি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে বানানটিকে পরিবর্তন করেছে। এর পেছনের কারণটি হচ্ছে সমসাময়িক বানানটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ ছিল।
সাধারণত একই সময়ের বা সমকালীন বোঝাতে আমরা সমসাময়িক শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু ‘একই সময়ের বা সমকালীন’ অর্থে সমসাময়িক শব্দটি শুদ্ধ কি না তা জানার জন্যে শব্দটির বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

সম শব্দের অর্থ হচ্ছে সমান বা একই, আর সাময়িক শব্দের অর্থ হচ্ছে ক্ষণকালীন। সমসাময়িক শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—একই ক্ষণকালীন। অনেকে হয়তো বলবেন যে সম+সময়+ইক = সমসাময়িক তো হওয়া সম্ভব। কিন্তু অর্থগত দিক বিবেচনায় সমসাময়িক শব্দটি ত্রুটিপূর্ণ ও প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য।

সমসময়+ইক = সামসময়িক। শুরুতে অ-ধ্বনি আছে এমন শব্দের সঙ্গে ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে সেই শব্দে সাধারণত আ-কার যুক্ত হয়। একই সময়ের বোঝাতে সামসময়িক শব্দটিতে অর্থবিভ্রান্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।
ব্যাকরণগত ও অর্থগত উভয় দিক থেকেই সামসময়িক শব্দটি শতভাগ শুদ্ধ।

সুপ্রিয় পাঠক, সমসাময়িক নাকি সামসময়িক, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে আর দ্বিধা নেই আশা করি। তাছাড়া সামসময়িক বানানটিতে কোনোপ্রকার ভুলের সম্ভাবনা নেই। আপনি নির্দ্বিধায় এটি লিখতে পারেন।

‘বহুল’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

বহুল’ শব্দটি নিজেই একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এই শব্দটি কখনো একসঙ্গে, আবার কখনো আলাদাভাবে বসে।
চলুন জেনে নিই এই শব্দটিকে কখন একসঙ্গে ও কখন আলাদাভাবে লিখতে হবে।

ক. ‘বহুল’ শব্দটি দিয়ে যে শব্দটির অর্থ জোরালো করা হয় সেটা আগে থাকলে বহুল শব্দটি সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে। ‘বহুল’ শব্দটি বিশেষ্য পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষণ পদ গঠন করে।
দৃষ্টান্ত :
১. এমন ব্যয়বহুল কাজ শেষ করা সহজ কথা নয়।
২. বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ।
৩. অনেক ঘটনাবহুল নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জন্মলাভ করেছে।
৪. টাইটানিক ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল জাহাজ।
৫. এরকম তথ্যবহুল লেখা আমি খুবই পছন্দ করি

খ. বহুল শব্দটি দিয়ে যে শব্দটির অর্থ জোরালো করা হয় সেটা পরে থাকলে বহুল শব্দটি আলাদাভাবে বসে। ‘বহুল’ শব্দটি বিশেষণের আগে বসে বিশেষণের অর্থে জোর দেয়।
দৃষ্টান্ত :
১. সরকারি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত একটি বহুল সমালোচিত বিষয়।
২. অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত দিনটি আমার সামনে এলো।
৩. করোনার সময়ে মাস্ক একটি বহুল ব্যবহৃত পণ্য।
৪. রহিম চাচা এলাকার বহুল পরিচিত একজন ব্যক্তি।



এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা : কোনটি সঠিক ও কেন ?

এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা, এই দুটির মধ্যে কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে সম্প্রতি কিছুটা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এদের শুদ্ধতা জানতে ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ জানা খুবই জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

আমরা বহু আগে থেকেই এতদ্বারা শব্দটির সঙ্গে পরিচিত।বিজ্ঞপ্তি বা ঘোষণায় “এতদ্বারা” শব্দটি দেখেননি বা শোনেননি এমন বাঙালি খুব কমই আছেন।আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই এই শব্দটি দেখে বা শুনে অভ্যস্ত।

এত শব্দটির অর্থ হচ্ছে এই পরিমাণ। এতদ্বারা শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—এই পরিমাণের দ্বারা। একবার ভেবে দেখুন তো বিজ্ঞপ্তিতে এতদ্বারা শব্দ দিয়ে ‘এই পরিমাণের দ্বারা’ বোঝানো হয় কি না।

বিজ্ঞপ্তিতে ওপরের শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় তার শুদ্ধ বানান হচ্ছে এতদ্দ্বারা। এতদ্দ্বারা শব্দটি সন্ধির নিয়মে গঠিত।এতদ্+দ্বারা = এতদ্দ্বারা। এতদ্ শব্দের অর্থ হচ্ছে এটা, এই বা ইনি। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহারযোগ্য এতদ্দ্বারা শব্দের অর্থ হচ্ছে এর দ্বারা বা এটার দ্বারা।এতদ্ হচ্ছে ‘এতৎ’ শব্দের আরেক রূপ, যেটা সাধারণত ঘোষবর্ণের আগে ব্যবহৃত হয়।

এর দ্বারা বা এটার দ্বারা বোঝাতে “এতদ্বারা” শব্দটি একেবারেই ভুল, যেটা আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। এতদ্বারা নাকি এতদ্দ্বারা লিখবেন তা নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নেই আশা করি।

‘বিশেষ’ একসঙ্গে না আলাদাভাবে লিখবেন?

একই শব্দ হলেও লেখার সময় ‘বিশেষ’ শব্দটির অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। আমরা অনেকেই দ্বিধায় থাকি এটা নিয়ে।
চলুন জেনে নিই বিশেষ শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ।

ক.বিশেষ’ শব্দটি আলাদাভাবে বসলে তা বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; তখন এর অর্থ দাঁড়ায় ‘মর্যাদাপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ’।
দৃষ্টান্ত :
১. তিনি আমার কাছে একজন বিশেষ ব্যক্তি।
২. প্রতিটি মানুষের কাছে তার জন্মদিন একটি বিশেষ দিন।
৩. বাংলা ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৪. রহমান সাহেব আজ অফিসে আসেননি, হতে পারে তাঁর বিশেষ কোনো কাজ আছে।
৫. বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে এখন বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।

খ.বিশেষ’ শব্দটি দিয়ে প্রকার, ভেদ বা রকম বোঝালে তা আগের শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. ব্যক্তিবিশেষে ধ্যান-ধারণার পার্থক্য ঘটে।
২. অবস্থাবিশেষে পানি রূপ পরিবর্তন করে।
৩. ক্ষেত্রবিশেষে তোমার যুক্তি সঠিক।
৪. লিটার—তরল পদার্থ পরিমাপের এককবিশেষ।
৫. দেশবিশেষে আবহাওয়ার তারতম্য ঘটে।