শৌখিন, অঘ্রাণ, অঘ্রান, ইঙ্গিত, বিরূপ

শৌখিন—বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শৌখিন  বানানটিকে শুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শৌখিন শব্দের উৎপত্তি আরবি শৌকিন থেকে। সৌখিন ভুল বানান।

অঘ্রাণ—অঘ্রাণ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঘ্রাণহীন।
ন+ √ঘ্রা+অন = অঘ্রাণ। তৎসম শব্দে ণত্ব বিধান অনুযায়ী র ধ্বনির পরে স্বরধ্বনি থাকলে পরের দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়ে যায়।

অঘ্রান—অঘ্রান হচ্ছে বাংলা পঞ্জিকার অষ্টম মাস।
অঘ্রান শব্দটি অগ্রহায়ণ শব্দের চলিত রূপ। অঘ্রান তদ্ভব শব্দ যার উৎপত্তি সংস্কৃত অগ্রহায়ণ থেকে। তদ্ভব শব্দে ণত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।

ইঙ্গিত—ইঙ্গিত শব্দের অর্থ হচ্ছে সংকেত, ইশারা। √ইন্‌গ্+ত = ইঙ্গিত।
ইঙ্গিত শব্দটি সন্ধির নিয়মে গঠিত নয় বলে ঙ-এর স্থানে অনুস্বার (ং) বসবে না।

বিরূপ—বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী বিরূপ শুদ্ধ বানান। বি+রূপ = বিরূপ। রূপ শব্দের অর্থ হচ্ছে শ্রী, অবস্থা। বিরূপ শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রতিকূল, শ্রীহীন, হীন রূপ। আমরা অনেকে প্রতিকূল অর্থে বিরুপ লিখে থাকি যা সঠিক নয়।

অনুস্বার (ং) ও ঙ-এর ব্যবহার

সন্ধিতে ম বর্ণের পরে ক, খ, গ, ঘ, য, র, ল, ব, শ, স, হ ইত্যাদি বর্ণের যে-কোনো একটি বর্ণ থাকলে সন্ধিবদ্ধ শব্দে পূর্বের ম-এর স্থানে সাধারণত অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন—
১. সম্+কীর্ণ = সংকীর্ণ
২. সম্+কলন = সংকলন
৩. সম্+কর = সংকর
৪. সম্+কট = সংকট
৫. সম্+গীত = সংগীত
৬. সম্+গঠন = সংগঠন
৭. সম্+গতি = সংগতি
৮. সম্+ঘাত = সংঘাত
৯. সম্+ঘটক = সংঘটক
১০. সম্+ঘর্ষ = সংঘর্ষ
১১. সম্+যম = সংযম
১২. সম্+যুক্ত = সংযুক্ত
১৩. সম্+যোগ = সংযোগ
১৪. সম্+রক্ষণ = সংরক্ষণ
১৫. সম্+শয় = সংশয়
১৬. সম্+হার = সংহার
১৭. সম্+হতি = সংহতি
১৮. সম্+বাদ = সংবাদ
১৯. সম্+সার = সংসার
২০. সম্+লাপ = সংলাপ
২১. অহম্+কার = অহংকার
২২. ভয়ম্+কর = ভয়ংকর

তবে কিছু ক্ষেত্রে ম-এর পরে যে-কোনো বর্গীয় বর্ণ থাকলে ম ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন—
১. শম্+কা =শঙ্কা
২. সম্+চয় = সঞ্চয়
৩. সম্+তাপ = সন্তাপ

সন্ধিবদ্ধ না হলে ঙ-এর স্থানে অনুস্বার (ং) হবে না।
যেমন—অঙ্ক, অঙ্গ, সঙ্গী, লঙ্ঘন, কঙ্কাল, আতঙ্ক, শৃঙ্খলা, প্রসঙ্গ।

দ্রষ্টব্যবাংলাবাংলাদেশ বানানে অনুস্বার অক্ষুণ্ন থাকবে।

সংগৃহীত, নিরবচ্ছিন্ন, প্রবহমান, বিদ্যুদায়ন, আহ্লাদী

সংগৃহীত—বাংলা একাডেমির অভিধানে সংগৃহীত বানানটিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। সম্+ √গ্রহ্+ত = সংগৃহীত। সংগৃহিত বা সংগ্রহিত বানান দুটি শুদ্ধ নয় যা আমরা অনেকেই লিখে থাকি।

নিরবচ্ছিন্ন—আধুনিক বাংলা অভিধানে নিরবচ্ছিন্ন বানানটিকে শুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। নির্+অবচ্ছিন্ন = নিরবচ্ছিন্ন। নির্+অবিচ্ছিন্ন নয়।

বিদ্যুদায়ন—বাংলা একাডেমির নতুন অভিধানে বিদ্যুদায়ন বানানটিকে শুদ্ধ ও অপ্রচলিত বানান হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিদ্যুৎ+আয়ন = বিদ্যুদায়ন। সন্ধিতে ত্ এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে পূর্বের ত পরিবর্তিত হয়ে দ হয়ে যায়।

প্রবহমান—পরিবর্তিত বানান অনুযায়ী প্রবহমান শুদ্ধ বানান। প্র+ √বহ্+মান = প্রবহমান। বহমান শব্দের সাথে প্র উপসর্গ যুক্ত হয়ে প্রবহমান শব্দটি গঠিত হয়েছে।

আহ্লাদী—সাম্প্রতিক সংস্করণের অভিধান অনুযায়ী আহ্লাদী শুদ্ধ বানান। আহ্লাদ+ইন্ = আহ্লাদী। ইন্ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে সাধারণত দীর্ঘ ঈ-কার বসে।

আপৎ, বিপৎ, আপদ্, বিপদ

আপৎ, বিপৎ—আপৎ ও বিপৎ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত যথাক্রমে আপদ্ ও বিপদ-এর রূপ।

উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে আপদ্, বিপদ-এর পরিবর্তে আপৎ, বিপৎ বসবে।
যেমন—
১. আপদ্+কাল = আপৎকাল
২. বিপদ্+সংকেত = বিপৎসংকেত
৩. বিপদ্+সংকুল = বিপৎসংকুল
৪. বিপদ্+সীমা = বিপৎসীমা

আপদ্, বিপদ—আপদ্ ও বিপদ হচ্ছে সমাস ও সন্ধিতে গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, য়, র, ল, হ ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত যথাক্রমে আপৎ ও বিপৎ-এর রূপ।

উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে আপৎ, বিপৎ-এর পরিবর্তে যথাক্রমে আপদ্ ও বিপদ বসবে।
যেমন—
১. আপদ্+গ্রস্ত = আপদগ্রস্ত
২. আপদ্+ধর্ম = আপদধর্ম
৩. বিপদ্+গর্ভ = বিপদগর্ভ
৪. বিপদ্+ভঞ্জন = বিপদভঞ্জন
৫. বিপদ+আপন্ন = বিপদাপন্ন
৬. বিপদ্+গ্রস্ত = বিপদগ্রস্ত

দ্রষ্টব্য —১. সন্ধিতে দ ধ্বনির পরে জ ধ্বনি এলে জ ধ্বনি অক্ষুণ্ন থাকে এবং আগের দ পরিবর্তিত হয়ে জ হয়ে যায়। যেমন—বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক। ২. স্বরধ্বনি থাকলেও দ্বিতীয় নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নেই/নিই, দেই/দিই-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

অনেক বাক্যেই আমাদেরকে নেই/নিই, দেই/দিই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক এদের পার্থক্য।

নেওয়া/গ্রহণ অর্থে উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে ‘নিই’ বসবে। আমি  ও আমরা উত্তম পুরুষের অন্তর্ভুক্ত।
যেমন—
◾আমি যখন বরফখণ্ডটি হাতে নিই, তখনই তা গলতে শুরু করে।
◾আমি প্রতিদিন তাকে কোলে নিই।
◾আমরাই প্রথম এই উদ্যোগ নিই।

না-বোধক বা নেতিবাচক অর্থে ‘নেই‘ বসবে। যেমন—
◾আমার আর তিলমাত্র বাঁচার সাধ নেই।
◾চোরটার পালানোর শক্তিটুকুও নেই।

একইরকমভাবে চলিত বাক্যে উত্তম পুরুষে দেওয়া অর্থে ‘দিই’ ব্যবহৃত হবে—দেই নয়। যেমন—
◾যখন তাকে খেলনা দিই, তখন সে দৌড়ে আসে।
◾আমি তাকে সবসময় পরামর্শ দিই।

দ্রষ্টব্য—সাধু বাক্যে প্রদান বা দেওয়া অর্থে ‘দেই’ ব্যবহৃত হয়।

হৃৎ ও হৃদ্-এর পার্থক্য ও ব্যবহার

হৃৎ—হৃৎ হচ্ছে সন্ধি ও সমাসে ক, খ, চ, ছ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত হৃদ্-এর রূপ।

উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে হৃদ্-এর পরিবর্তে হৃৎ বসবে।
যেমন—
১. হৃদ্+কমল = হৃৎকমল
২. হৃদ্+কম্প = হৃৎকম্প
৩. হৃদ্+ পিণ্ড = হৃৎপিণ্ড
৪. হৃদ্+স্পন্দন = হৃৎস্পন্দন

হৃদ্—হৃদ্ হচ্ছে সন্ধি ও সমাসে গ, ঘ, ঙ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ন, ব, ভ, ম, য, য়, র, ল, হ ইত্যাদি বর্ণের আগে ব্যবহৃত হৃৎ-এর রূপ।

উপরিউক্ত যে-কোনো বর্ণের আগে হৃৎ-এর স্থানে হৃদ্ বসবে।
যেমন—
১. হৃদ্+রোগ = হৃদ্‌রোগ
২. হৃদ্+গত = হৃদ্‌গত
৩. হৃদ্+যন্ত্র = হৃদ্‌যন্ত্র

দ্রষ্টব্য—স্বরধ্বনি থাকলেও শেষের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেশি, বেশী, ভাবি, ভাবী

বেশি—বেশি শব্দের অর্থ হচ্ছে অধিক, অতিশয়। অধিক, অতিশয় অর্থে ব্যবহৃত বেশি শব্দটি ফারসি শব্দ। বিদেশি শব্দের রীতি অনুযায়ী এই শব্দে হ্রস্ব-ই কার বসবে।
যেমন—
১. শিমুলের বাবা বেশিদিন আগে মারা যায়নি।
২. বেশিরভাগ মানুষই করোনা নিয়ে তেমন সচেতন নয়।

বেশী—বেশী শব্দের অর্থ হচ্ছে বেশধারী। বেশ+ইন্ = বেশী। ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার বসে।
যেমন—
১. ভদ্রবেশী লোকটির আসল রূপ কেউ জানে না।
২. মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ছদ্মবেশী লোকটিকে প্রাসাদে ডাকলেন।

ভাবি—ভাবি শব্দের অর্থ হচ্ছে ভাইয়ের পত্নী, চিন্তা করি (উত্তম পুরুষে)। ভাবি (ভাইয়ের পত্নী) শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত ভ্রাতৃজায়া থেকে। অতৎসম শব্দ হওয়ার কারণে শব্দটিতে হ্রস্ব ই-কার বসবে।
যেমন—
১. তোমার কথা আমি রোজই ভাবি।
২. শায়লা সম্পর্কে আমার ভাবি হয়।

ভাবী—ভাবী শব্দের অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যৎ, অনাগতকাল, ভবিষ্যতে ঘটবে এমন। √ভূ+ইন্ = ভাবী। ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার বসে।
যেমন—
১. সে আমার ভাবী স্ত্রী।
২. তোমার জয় অবশ্যম্ভাবী।
২. ভাবীকালের কথা কে বলতে পারে!

বচন কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী?

বচন অর্থ সংখ্যার ধারণা। এটি ব্যাকরণের এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বচন মূলত বিশেষ্য বা সর্বনামকে নির্দিষ্ট করে। বচন দুই প্রকার—১. একবচন  ২. বহুবচন।

একবচন

একবচন সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনামের একটি সংখ্যা নির্দেশ করে।
দৃষ্টান্ত :
১. মেয়েটি ইশকুলে যায়।
২. চোরটা পালিয়ে গেল।

বহুবচন

বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে তাকে বহুবচন বলে।

গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ—গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ ইত্যাদি শব্দগুলো মানুষের (উন্নত প্রাণিবাচক) বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. জনগণ সরকারের থেকে তাদের প্রাপ্য অধিকার চায়।
২. সভায় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ ভাষণ দেবেন।
৩. একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শিক্ষকমণ্ডলী অনেক ভূমিকা পালন করেন।
৪. অনুষ্ঠানে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ হাজির হয়েছেন।

সকল, কুল, সব, সমূহ, গুলো, গুলা, গুলি—সকল, কুল, সব, সমূহ, গুলো, গুলা, গুলি ইত্যাদি শব্দগুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক বহুবচন প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. আমার মাতৃকুলের সবাই আমাকে খুব স্নেহ করেন।
২. পক্ষিকুলের মধ্যে কোকিলের গান সবচেয়ে মিষ্টি।
৩. পণ্যগুলো তার ঠিকানায় পৌঁছে দাও।
৪. মানুষগুলো মাঝে মাঝে পশুর মতো হিংস্র হয়ে যায়!
৫. পর্বতসকলের মধ্যে হিমালয় শ্রেষ্ঠ।
৬. সকল প্রাণীই মরণশীল।
৭. ভাইসব, আমার কথা মন দিয়ে শুনুন।
৮. পাখিসব করে রব।
৯. আমার পাণ্ডুলিপিসমূহ অনাদরে পড়ে আছে।

দ্রষ্টব্যগুলা প্রমিত নিয়মে ব্যবহৃত হয় না।

রা—সাধারণত মানুষের (উন্নত প্রাণিবাচক) বহুবচনে ‘রা’ ব্যবহৃত হয়। তবে মাঝে মাঝে অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও ‘রা‘ ব্যবহৃত হতে পারে।
দৃষ্টান্ত :
১. ছাত্ররা গুলির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে।
২. পাখিরা মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াতে চায়।

মালা, পুঞ্জ, রাজি, রাশি, গুচ্ছ, আবলি, দাম, নিকর, নিচয়—মালা, পুঞ্জ, রাজি, রাশি, গুচ্ছ, আবলি, দাম নিকর, নিচয় ইত্যাদি শব্দগুলো অপ্রাণিবাচক বহুবচন নির্দেশ করে।
দৃষ্টান্ত :
১. বিস্তীর্ণ পর্বতমালা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
২. মেঘপুঞ্জ ক্ষণিকের—স্থায়ী নয়।
৩. আকাশের তারকারাজির মোহনীয় রূপ সবার মন কাড়ে।
৪. সে সমুদ্রের বালুরাশিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল।
৫. একগুচ্ছ মালা গেঁথেছি তোমার জন্য।
৬. আমি রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি সংগ্রহ করেছি।
৭. আঙিনায় কুসুমদাম/কুসুমনিচয় মৌ মৌ করছে।
৮জলে কমলনিকর ফুটে রয়েছে।

পাল, যূথ—পাল ও যূথ শব্দ দুটি জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. গোরুর পাল ঘরে ফিরছে।
২. হস্তিযূথ বন সাবাড় করে দিয়েছে।

কেন নাকি কেনো : কোনটি সঠিক ও কেন ?

কেন নাকি কেনো, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এটা সহজে মনে রাখার জন্যে আপনাকে যে-কোনো একটি মনে রাখলেই হবে। চলুন সহজ উপায় জেনে নেওয়া যাক।

বাংলা অ-কারান্ত শব্দের শেষে ‘ও’ উচ্চারিত হলে বাংলা একাডেমির মতে কিছুক্ষেত্রে ও-কার লেখার সুযোগ  রয়েছে।
তবে সব ক্ষেত্রেই ও-কার লেখা উচিত নয়।
উপরিউক্ত শব্দ দুটির ব্যবহারে পার্থক্য রয়েছে।

কেন—কেন শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে ‘ক্যানো’।
কেন শব্দের অর্থ হচ্ছে—কীজন্য, কী কারণে, কী হেতু, কী উদ্দেশ্যে।
কারণ, উদ্দেশ্য, হেতু বোঝালেকেন‘ বসবে।
দৃষ্টান্ত : 
১. আবার কেন ফিরে এসেছ?
২. সিজান কেন তোমাকে মারল?
৩. তুমি আজ বিদ্যালয়ে যাওনি কেন?

কেনো—কেনো শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে ‘কেনো’।
কেনো শব্দের অর্থ হচ্ছে—ক্রয় করো।
কেনো শব্দটি কেনা/ক্রয়ের অনুজ্ঞা।
তাই ক্রয়ের অনুজ্ঞা অর্থে ‘কেনো‘ বসবে।
দৃষ্টান্ত : 
১. কেদারাটি কেনো; তাতে তোমার বরং লাভই হবে।
২. জীবন বাঁচাতে মাস্ক (মুখাবরণ) কেনো।

কেন নাকি কেনো, কোনটি সঠিক সেটা নিয়ে আর দ্বিধা নেই আশা করি।

সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন : কোনটি সঠিক?

সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন, কোনটি কোথায় ব্যবহার করতে হবে সেটা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এটা সহজে মনে রাখার জন্যে আপনাকে যে-কোনো একটি মনে রাখলেই হবে। চলুন সহজ উপায় জেনে নেওয়া যাক।

সর্বজনীন—সর্বজনীন শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সকলের জন্য হিতকর’, ‘সকলের জন্য প্রযোজ্য’।
সকলের জন্য হিতকর বা সকলের জন্য প্রযোজ্য অর্থে সর্বজনীন শব্দটি ব্যবহৃত হবে।
দৃৃৃষ্টান্ত :
১. ১লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব।
২. তোমার এই কাজ হবে সমাজের জন্য সর্বজনীন।
৩. এই মুহূর্তে পুনরায় লকডাউন করা দেশের জন্য সর্বজনীন কাজ হবে।

সার্বজনীন—সার্বজনীন শব্দের অর্থ হচ্ছে সকলের মধ্যে প্রবীণ বা শ্রেষ্ঠ। সকলের মধ্যে প্রবীণ বা শ্রেষ্ঠ অর্থে সার্বজনীন শব্দটি ব্যবহৃত হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন তৎকালীন উপমহাদেশের সার্বজনীন কবি।
২. ড. আনিসুজ্জামানের মতো সার্বজনীন শিক্ষাবিদের মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

সর্বজনীন নাকি সার্বজনীন লিখতে হবে তা নিয়ে আর সমস্যা নেই আশা করি। বাংলা একাডেমির মতে এটাই যথাযথ পার্থক্য।